Logo

কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৩
কাদা থেকে উঠে আসছে একের পর এক লাশ, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল ঢল ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরাতেই একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকারীরা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এ পর্যন্ত ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার দিকে আকস্মিকভাবে প্রবল ঢল নেমে আসে। হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ তীব্র গতিতে নেমে আসার পর বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পরে বন্যার স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের শহর ও গ্রামগুলোতে আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

উদ্ধারকাজের সময় আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। একসময় জনবসতিপূর্ণ ও প্রাণচঞ্চল এলাকাগুলো এখন কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকা থেকে আকাশপথে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রেডক্রসের নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যায় কয়েকটি গ্রাম ও ব্যস্ত বাজার এলাকা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মধ্যেই একই অঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধসের ধ্বংসাবশেষ আটকে রয়েছে। এর ফলে সেখানে পানি জমে নতুন করে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জমে থাকা পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে এলে ভাটির অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের সতর্কতা জানিয়েছে চীনও। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেপালে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে একটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। ওই বাধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে কয়েক দিনের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে নতুন সৃষ্ট হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমার আশঙ্কা রয়েছে।

তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি এলাকায় হ্রদটি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হ্রদটির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার প্রভাব নিরূপণের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বিবিসি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD