মদিনার পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে হুথিদের পাঁচটি ড্রোন হামলা, ধ্বংস করল সৌদি জোট

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও পবিত্র নগরী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ড্রোন আকাশেই প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এসব ড্রোন ছুড়েছিল বলে জানিয়েছে জোট। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি।
বিজ্ঞাপন
জোটের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল এবং মদিনার দিকে আসা ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। তবে হামলার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ড্রোনগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মদিনা অত্যন্ত পবিত্র একটি শহর। এখানেই অবস্থিত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নির্মিত মসজিদে নববি এবং তাঁর রওজা মোবারক। এর আগে মদিনাকে লক্ষ্য করে আরও দুই দফা ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল হুথিরা। সেসব ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছিল সৌদি জোট।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের বর্তমান পর্যায়ের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। তাঁকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ অংশ নেয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সময়ে জোটের সামরিক উপস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। ২০১৯ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি জোট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের প্রভাব রয়েছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত কিছুটা কমে আসে। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে হুথিদের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই প্রণালি বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।








