Logo

চুল পড়া রোধে পেঁয়াজ-মেথি তেল কতটা কার্যকর?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৪৩
চুল পড়া রোধে পেঁয়াজ-মেথি তেল কতটা কার্যকর?
ছবি: সংগৃহীত

চুল পড়া বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অন্যতম সাধারণ একটি সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চুল পড়া বন্ধ কিংবা নতুন চুল গজানোর আশ্বাস দিয়ে পেঁয়াজের রস, মেথি, কালোজিরা, জবা ফুল, কারিপাতা বা অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন তেল ও হেয়ার প্যাকের প্রচারণা চোখে পড়ে। অনেক বিক্রেতা এসব পণ্যের মাধ্যমে শতভাগ কার্যকারিতার দাবিও করেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শিক্ষার্থী নিজের চুল পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরামর্শ চান। তিনি জানান, আগে থেকেই তাঁর চুল পাতলা ছিল, এখন প্রতিদিন অতিরিক্ত চুল পড়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর নয়, একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য মানুষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এর চেয়ে বেশি চুল ঝরতে থাকলে বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে এর পেছনে কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুল পড়ার কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। বংশগত প্রবণতা, হরমোনের পরিবর্তন, অপুষ্টি, মানসিক চাপ, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েড সমস্যা, ফাঙ্গাল সংক্রমণ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা অন্যান্য রোগের কারণেও চুল ঝরতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজ, মেথি, কালোজিরা, আমলকি বা জবা ফুলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকলেও এগুলো সরাসরি চুল পড়া বন্ধ করে বা নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব প্রাকৃতিক উপাদান মাথার ত্বকের কিছুটা যত্ন নিতে পারে এবং স্ক্যাল্পের পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, মানুষের মাথায় নির্দিষ্ট সংখ্যক হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়া জন্মগতভাবেই থাকে। কোনো কারণে ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন করে তা তৈরি হয় না। তাই চুল পড়ার শুরুতেই সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই দীর্ঘদিন ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা বিলম্বিত করেন, ফলে পরে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, মাথার ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। এর ফলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ উন্নত হয়, যা সাময়িকভাবে উপকার দিতে পারে। কিন্তু এটিকে নতুন চুল গজানোর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

আন্তর্জাতিক কিছু গবেষণায় রোজমেরি তেল ব্যবহারে সীমিত ইতিবাচক ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পেঁয়াজ, মেথি বা কালোজিরার ক্ষেত্রে একই ধরনের শক্ত প্রমাণ এখনো অনুপস্থিত বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন এসব উপাদান মাথায় মাখলেই চুলের পুষ্টি বাড়বে। বাস্তবে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান খাবারের মাধ্যমেই বেশি কার্যকরভাবে শরীরে প্রবেশ করে। তাই আমলকি, মেথি, অ্যালোভেরা কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান খাদ্যতালিকায় রাখা বেশি উপকারী হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকরা আরও সতর্ক করে বলেন, অনলাইনে বিক্রি হওয়া হারবাল তেল বা হেয়ার প্যাকের উপাদান, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও মান সবসময় যাচাই করা সম্ভব হয় না। ভুল উপাদান বা দীর্ঘদিন সংরক্ষিত পণ্য ব্যবহারে অ্যালার্জি, স্ক্যাল্পে প্রদাহ, খুশকি কিংবা অন্যান্য ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া যাদের মাথার ত্বক স্বাভাবিকভাবেই তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক বা কোঁকড়ানো, তারা প্রয়োজনে সীমিত পরিমাণে চুলের গোড়ায় নয়, বরং চুলের অংশে হালকা তেল ব্যবহার করতে পারেন।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, অল্প বয়সে টাক পড়া বা হঠাৎ করে চুল ঝরে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD