‘আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, আশ্রয়হীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন

সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এবং নতুন পরিবারের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে যেসব প্রাণী এখনো একটি নিরাপদ ও স্থায়ী ঘর খুঁজে পায়নি, তাদের স্মরণ এবং প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেও দিবসটি পালন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দত্তক নেওয়া যেমন মানুষের জীবনে আনন্দ বয়ে আনতে পারে, তেমনি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীও পেতে পারে নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ একটি ঘর। অনেক প্রাণী দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরও নতুন পরিবার খুঁজে পায় না। ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’ সেই প্রাণীদের কথাই মানুষকে মনে করিয়ে দেয়।
যেভাবে শুরু হলো ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’ একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলেন উডওয়ার্ড অ্যানিমেল সেন্টার এ উদ্যোগ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি সান দিয়েগো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ বাড়ি খুঁজে দেওয়ার কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
দিবসটির প্রচারে ডায়ান কিটন, ইয়ান সোমারহাল্ডার ও ওয়াইনোনা জাডসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাও যুক্ত হয়েছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উদ্যোগ ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ ৩৩ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত হন।
দত্তকেই বদলে যেতে পারে একটি প্রাণীর জীবন
বিজ্ঞাপন
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’ পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনো প্রাণী দত্তক নেওয়া। ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য করে নিলে তার জীবনও বদলে যেতে পারে।
যারা নতুন পোষ্য নেওয়ার কথা ভাবছেন, তারা স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দত্তক নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। একটি প্রাণী দত্তক নেওয়ার ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য একটি প্রাণীর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।
পাশে দাঁড়ানোর আরও সুযোগ
বিজ্ঞাপন
সবাই প্রাণী দত্তক নিতে না পারলেও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা যায়। প্রাণীদের খাবার দেওয়া, যত্ন নেওয়া, কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, তাদের শরীরচর্চার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার রাখার মতো কাজেও সহযোগিতা করা সম্ভব।
এ ছাড়া প্রাণী দত্তকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।
ছড়িয়ে দেওয়া যায় সচেতনতার বার্তা
বিজ্ঞাপন
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’র বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দত্তক নেওয়া প্রাণীর ছবি, গল্প ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
একটি পোষ্য কীভাবে জীবনে আনন্দ এনেছে, তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা দত্তক নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে অন্যরাও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা ভাবতে উৎসাহিত হতে পারেন।
নতুন ঘর না পাওয়া প্রাণীদের স্মরণ
বিজ্ঞাপন
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’র আরেকটি প্রতীকী আয়োজন হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কখনো নতুন বাড়িতে যেতে না পারা প্রাণীদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো। কেউ বাড়িতে একাই মোমবাতি জ্বালিয়ে এতে অংশ নিতে পারেন। আবার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ছোট আয়োজন করা যায়।
মোমবাতির আলো যেন মনে করিয়ে দেয়—আজও অনেক প্রাণী একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে।
‘রিমেম্বার মি থার্সডে’ তাই শুধু একটি দিবস নয়; আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা মনে করার, তাদের জন্য নিরাপদ পরিবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার এবং প্রাণী দত্তকের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের বাস্তবতা
বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক কুকুর ও বিড়াল আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখার বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশে মোট কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ কুকুর বেওয়ারিশ।
বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জরিপ এবং প্রাণিকল্যাণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর রাস্তায় আনুমানিক ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে দেশে বেওয়ারিশ বিড়ালের সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি পরিসংখ্যান নেই। প্রাণিকল্যাণ কর্মীদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরের অলিগলি, কাঁচাবাজার ও ডাস্টবিন এলাকায় বিপুলসংখ্যক আশ্রয়হীন বিড়াল রয়েছে।








