Logo

সকালের নাস্তার পর হঠাৎ ব্লাড সুগার বাড়ে কেন?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬
সকালের নাস্তার পর হঠাৎ ব্লাড সুগার বাড়ে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম ও মেডিটেশনের মতো অভ্যাস থাকার পরও অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর পেছনে সকালের নাস্তায় কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর মনে হওয়া নাস্তাতেও অতিরিক্ত চিনি বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সকালের খাবার দিনের শক্তির মাত্রা ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নাস্তায় কী ধরনের খাবার এবং কী পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

যে ৫ ভুলে বাড়তে পারে রক্তে শর্করা

১. চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া

বিজ্ঞাপন

মিষ্টি সিরিয়াল, ফ্লেভারযুক্ত দই, পেস্ট্রি, বিস্কুট এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা বা কফি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই অতিরিক্ত চিনি রয়েছে এমন খাবারের পরিবর্তে চিনি ছাড়া খাবার বেছে নেওয়া ভালো। খাবারে মিষ্টি স্বাদ প্রয়োজন হলে ফল রাখা যেতে পারে।

২. সরাসরি কার্বোহাইড্রেট খাওয়া

টোস্ট বা ইডলি দিয়ে সকালের নাস্তা করলে মানুষের ক্ষুধা পেতে পারে। এই ধরনের খাবারের সঙ্গে ডিম বা দইয়ের মতো প্রোটিন মিশিয়ে খাওয়া একটি ভালো উপায়।

বিজ্ঞাপন

৩. খুব ঘন ঘন ময়দার খাবার খাওয়া

সাদা রুটি এবং সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার বিপাকীয়ভাবে হজমযোগ্য। আস্ত গম, ওটস, মিলেট এবং অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৪. খাওয়ার পরিবর্তে পান করা

বিজ্ঞাপন

ফলের রস, মিষ্টি পানীয় এবং কিছু স্মুদিতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। এগুলো একটি গোটা ফলের মতো পেট ভরাতেও পারে না। তাই গোটা ফল এবং চিনি ছাড়া পানীয় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৫. খাবারের পরিমাণ

অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যকর খাবারও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। সকালের নাস্তায় প্রোটিন, আঁশযুক্ত উপাদান যেমন শস্য, শাক-সবজি ও ফল, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং উপযুক্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এখানে মূল উদ্দেশ্য সকালের নাস্তায় কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রোটিন ও আঁশের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট অন্তর্ভুক্ত করা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং এর ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভব করা।

সকালের নাস্তা কীভাবে রক্তে শর্করায় প্রভাব ফেলে

অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় সকালের নাস্তা, খাবারের ধরন এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণের মধ্যকার সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় দেখা যায়, সকালের নাস্তা বাদ দেওয়ার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, মেটাবলিক সিনড্রোম এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার একটি শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। সকালের খাবার বাদ দিলে শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে, যা দিনের পরবর্তী সময়ে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমাতে পারে।

অন্যদিকে, সকালের নাস্তা খেলে সারাদিনের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে শরীরের সক্ষমতা বাড়তে পারে। দৈনন্দিন হরমোনের ছন্দের কারণেও সকালে শরীর কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অল্প পরিমাণের নাস্তা ও বেশি পরিমাণ রাতের খাবারের তুলনায় বেশি শক্তিসমৃদ্ধ নাস্তা এবং তুলনামূলক কম পরিমাণ রাতের খাবার গ্রহণ করলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির হার কমতে পারে। তবে শুধু নাস্তা খাওয়াই নয়, নাস্তায় কী ধরনের খাবার রাখা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

সকালের খাবারে দ্রুত শোষিত হয় এমন কার্বোহাইড্রেট, যেমন চিনিযুক্ত পেস্ট্রি বা সাদা পাউরুটি থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। এর পরিবর্তে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, আস্ত শস্য এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কার্বোহাইড্রেটের শোষণ ধীর হতে পারে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত করে, আঁশ ও আস্ত শস্যসমৃদ্ধ সকালের খাবার বেছে নেওয়া এবং দ্রুত হজম হয় এমন অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে খাবারের পর রক্তে শর্করা বারবার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD