Logo

আজ বিশ্ব গণ্ডার দিবস

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭
আজ বিশ্ব গণ্ডার দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস। পৃথিবীতে টিকে থাকা গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণী সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করতেই প্রতিবছর দিনটি পালন করা হয়। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে গণ্ডার। দীর্ঘ এই সময়ে নানা প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মধ্যেও প্রাণীটি টিকে থাকলেও মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিশ্বে এখন সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গণ্ডার রয়েছে। পাঁচ প্রজাতির মধ্যে চারটিই কোনো না কোনো মাত্রায় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলো হলো সাদা গণ্ডার, কালো গণ্ডার, সুমাত্রান গণ্ডার, জাভান গণ্ডার ও একশৃঙ্গ গণ্ডার। সাদা ও কালো গণ্ডারের আবাস আফ্রিকায়। অন্য তিন প্রজাতি এশিয়ায় পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক গণ্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি। কালো গণ্ডার রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা এর তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডার বিলুপ্তির অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গণ্ডারের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো অবৈধ শিকার। মূলত শিংয়ের জন্যই শিকারিরা গণ্ডার হত্যা করে। গণ্ডারের শিং কেরাটিন নামের একটি উপাদান দিয়ে তৈরি। মানুষের চুল ও নখেও একই উপাদান রয়েছে।

গণ্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এরপরও শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গণ্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হচ্ছে। ফলে প্রাণীটির স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গণ্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোও সহজ নয়। আফ্রিকান গণ্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস। সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় তারা। ফলে অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে গণ্ডারের সংখ্যা কমে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

বিজ্ঞাপন

তবে গণ্ডার সংরক্ষণে কিছু আশার খবরও রয়েছে। বিভিন্ন সংরক্ষণ উদ্যোগের ফলে কিছু অঞ্চলে কালো গণ্ডার ও একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গণ্ডারকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে গণ্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।

একসময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গণ্ডারের বিচরণ ছিল। সময়ের সঙ্গে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের বিস্তৃতি অনেক কমে গেছে। বর্তমানে গণ্ডার মূলত আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষিত এলাকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীতে টিকে থাকা প্রায় ২৭ হাজার গণ্ডারকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD