৩০ সেকেন্ডে দূর হবে দুশ্চিন্তা, মন ভালো রাখার ৫ কৌশল

সংসার, কর্মক্ষেত্রসহ নানা ধরনের চাপের কারণে অনেকের মধ্যেই বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও অকারণ উদ্বেগ। দীর্ঘদিনের এই দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, স্মৃতিশক্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে মানসিকভাবে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে কিছু সহজ অনুশীলন করা যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংসার আর কর্মক্ষেত্রের টানাপোড়েনে দিন দিন বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও অহেতুক উদ্বেগ, যা প্রভাব ফেলছে স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিজেকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখা জরুরি। আর এর জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের বিশেষ কিছু চর্চাতেই মিলবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট সময় দিয়ে কিছু নির্দিষ্ট শ্বাসব্যায়াম, মুদ্রা ও শরীরচর্চা করলে মানসিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। মন ভালো রাখা এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এমন পাঁচটি সহজ পদ্ধতি হলো—
১. সিদ্ধাসন
বিজ্ঞাপন
মেঝেতে ম্যাট বিছিয়ে পিঠ সোজা করে বসুন। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে ডান পায়ের ওপর এবং ডান পা ভাঁজ করে বাঁ পায়ের ওপর রাখুন। দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে জ্ঞান মুদ্রা করুন। এ মুদ্রায় তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলের ডগা পরস্পরের সঙ্গে স্পর্শ করিয়ে অন্য তিনটি আঙুল সোজা রাখতে হয়।
কিছুক্ষণ এভাবে শান্তভাবে বসে থাকলে মনকে স্থির করতে সহায়তা করতে পারে এই আসন।
২. বক্স ব্রিদিং
বিজ্ঞাপন
মানসিক চাপ কমাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রিত অনুশীলন হিসেবে বক্স ব্রিদিং করা যায়। প্রথমে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এরপর গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন এবং মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনুন। পরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছেড়ে দিন।
নিয়ম মেনে এই শ্বাসের ব্যায়াম করলে শরীর ও মনকে কিছুটা শান্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৩. ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
বিজ্ঞাপন
মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিন। কিছুক্ষণ শ্বাস ধরে রাখার পর ধীরে তা ছেড়ে দিন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
প্রতিদিন ৩ থেকে ৬ মিনিট এই অনুশীলন করলে মানসিক অবসাদ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি বা সাইনাসের সমস্যায় এটি উপকারী হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. প্রাণ মুদ্রা
বিজ্ঞাপন
সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এরপর দুই হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল বৃদ্ধাঙ্গুলের সঙ্গে যুক্ত করুন। বাকি আঙুলগুলো সোজা রাখুন। হাত দুটি হাঁটুর ওপর রেখে চোখ বন্ধ করে প্রায় ১০ মিনিট বসে থাকুন।
এই মুদ্রা স্নায়ুকে শান্ত রাখতে এবং শরীরের ক্লান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৫. চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচ
বিজ্ঞাপন
চেয়ারে পিঠ সোজা রেখে বসুন এবং দুই কাঁধ সমান্তরাল রাখুন। এবার দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। পিঠ সোজা ও টানটান রেখে হাত দুটিকে যতটা সম্ভব পেছনের দিকে প্রসারিত করুন।
বুক প্রসারিত অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থেকে ধীরে গভীর শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। নিয়মিত এই স্ট্রেচ করলে শরীরের পেশির জড়তা কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সতেজ অনুভব করতে সহায়তা করতে পারে।
ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য এমন কিছু অনুশীলন অভ্যাসে আনলে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।








