সর্দি-জ্বরে মুখের অরুচি দূর করতে ঘরেই বানান মজাদার টক ফল মাখা

সর্দি-জ্বরের সময় অনেকের মুখে তিতা ভাব দেখা দেয়। খাবারের প্রতি আগ্রহও কমে যায়। এমন সময়ে টক, ঝাল ও মিষ্টি স্বাদের খাবার খেতে ইচ্ছা হতে পারে। বাজারে সহজলভ্য আনারস, পেয়ারা ও আমড়া দিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু টক ফল মাখা। কাসুন্দি, মরিচ ও বিট লবণের মিশ্রণে তৈরি এই খাবার বিকেলের নাশতায়ও আনতে পারে ভিন্ন স্বাদ।
বিজ্ঞাপন
আনারস, পেয়ারা ও আমড়ায় রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে ফল মাখা খেলে সরাসরি সর্দি-জ্বর সেরে যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি রুচি অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ফল খাওয়া যেতে পারে।
টক ফল মাখা তৈরিতে যা যা লাগবে
এই পদটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে— আনারস কুচি: ১ কাপ, পেয়ারা কুচি: ১ কাপ, আমড়া কুচি: ১ কাপ, শুকনা মরিচ টেলে গুঁড়া: ১ টেবিল চামচ, লাল চিনি: ২ টেবিল চামচ, বিট লবণ: আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি: ১ টেবিল চামচ, সাধারণ লবণ: আধা চা-চামচ, কাসুন্দি: ২ টেবিল চামচ এবং লেবুপাতা: ২টি।
বিজ্ঞাপন
যেভাবে তৈরি করবেন মজাদার ফল মাখা
প্রথমে আনারস, পেয়ারা ও আমড়া পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। আমড়ার আঁটি সরিয়ে শাঁস কুচিয়ে নিলে খেতে সুবিধা হবে। পেয়ারা কাটার পর বীজের অংশ রাখতে বা বাদ দিতে পারেন।
এবার একটি বড় বাটিতে কাটা তিন ধরনের ফল একসঙ্গে নিন। এতে শুকনা মরিচের গুঁড়া, লাল চিনি, বিট লবণ, কাঁচা মরিচ কুচি ও সাধারণ লবণ মিশিয়ে দিন। এরপর দুই টেবিল চামচ কাসুন্দি যোগ করে সব উপকরণ ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। প্রতিটি ফলের টুকরোয় যেন মসলা সমানভাবে লেগে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
বিজ্ঞাপন
সবশেষে লেবুপাতা ছোট করে ছিঁড়ে বা কুচিয়ে মিশিয়ে দিন। এতে ফল মাখায় বাড়তি সুগন্ধ যোগ হবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল টক, ঝাল ও মিষ্টি স্বাদের মুখরোচক ফল মাখা। পছন্দমতো বাটিতে পরিবেশন করুন।
ফল মাখার স্বাদ বাড়ানোর সহজ কৌশল
ফল মাখা পরিবেশনের ঠিক আগে তৈরি করলে এর স্বাদ ও গঠন ভালো থাকে। অনেক আগে মসলা দিয়ে মাখিয়ে রাখলে ফল থেকে পানি বের হয়ে মিশ্রণ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ঝাল কম খেতে চাইলে শুকনা ও কাঁচা মরিচের পরিমাণ কমিয়ে নিন। অন্যদিকে টক স্বাদ বেশি পছন্দ হলে আমড়ার পরিমাণ নিজের রুচি অনুযায়ী বাড়াতে পারেন। চিনির পরিমাণও স্বাদ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সর্দি-জ্বরে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
জ্বরের সময় মুখে ঘা, গলাব্যথা কিংবা টক খাবারে অস্বস্তি থাকলে ফল মাখা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ঝাল ব্যবহার না করে পরিমিত উপকরণে তৈরি করাই ভালো। ফল কাটার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং পরিষ্কার পাত্রে খাবার তৈরি করাও জরুরি।
বিজ্ঞাপন
সর্দি-জ্বরের সঙ্গে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে বা জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মুখের স্বাদ বদলাতে টক ফল মাখা খাওয়া যেতে পারে, তবে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।







