বালিশের কভার থেকেই বাড়তে পারে ব্রণ, সতর্ক হবেন যেভাবে

ত্বকের যত্নে নিয়মিত ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু প্রতিদিন যে বালিশে মুখ রেখে ঘুমান, সেটির কভার কতটা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতনতা কম। অথচ বালিশের কভারের পরিচ্ছন্নতাও ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ঘুমের সময় বালিশের কভারে মুখ ও চুলের সংস্পর্শে আসায় সেখানে জমতে পারে ঘাম, ত্বকের অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ, ধুলাবালু এবং চুলের প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এসব উপাদান ত্বকের সংস্পর্শে এসে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভাব সমস্যা বাড়াতে পারে।
অনেকেই ব্রণ কমাতে দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করলেও বালিশের কভার, তোয়ালে কিংবা মুখ মোছার কাপড় পরিষ্কার রাখার বিষয়টি এড়িয়ে যান। ফলে ত্বকের পরিচর্যায় ছোট এই অভ্যাসটির গুরুত্ব উপেক্ষিত থেকে যায়।
বালিশের কভারে কী জমে?
বিজ্ঞাপন
প্রতিদিন ঘুমানোর সময় মুখ ও চুল বালিশের কভারের সংস্পর্শে থাকে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক তেল, ঘাম, মৃত কোষ এবং চুলে ব্যবহৃত তেল বা প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ কাপড়ে লেগে যেতে পারে। এর সঙ্গে ধুলাবালুও জমে।
দীর্ঘদিন কভার পরিষ্কার না করলে এসব উপাদান সেখানে জমে থাকে। ঘুমের সময় মুখের ত্বক বারবার সেই কাপড়ের সংস্পর্শে আসে। ফলে ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বালিশের কভার নিয়মিত ধোয়া প্রয়োজন।
কত দিন পরপর বদলাবেন?
বিজ্ঞাপন
সাধারণভাবে সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কভার ধুয়ে বা বদলে নেওয়া ভালো। তবে যাঁদের ত্বক বেশি তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ কিংবা রাতে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ঘন ঘন কভার পরিবর্তন করতে পারেন।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম বেশি হলে বালিশের কভার দ্রুত অপরিষ্কার হতে পারে। তাই আবহাওয়া ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের ধরন বিবেচনায় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
অপরিষ্কার কভার কি ব্রণের কারণ?
বালিশের কভারে জমে থাকা তেল, ঘাম ও ময়লা ত্বকের সংস্পর্শে এলে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যাঁদের ত্বক আগে থেকেই ব্রণপ্রবণ, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভাব সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে শুধু অপরিষ্কার বালিশের কভার থেকেই ব্রণ হয়, এমন নয়। হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদনসহ বিভিন্ন কারণে ব্রণ দেখা দিতে পারে। তাই ব্রণের সমস্যা হলে কভার পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যান্য কারণও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
বালিশের কভার পরিষ্কারে ৫টি বিষয়
১. নিয়মিত ধুয়ে নিন: ব্যবহৃত বালিশের কভার সপ্তাহে অন্তত একবার ধুয়ে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজন হলে আরও ঘন ঘন পরিবর্তন করুন।
২. ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করুন: ধোয়ার পর কভার সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে কভার ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
বিজ্ঞাপন
৩. মৃদু ডিটারজেন্ট বেছে নিন: ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এমন তীব্র সুগন্ধিযুক্ত ডিটারজেন্ট এড়িয়ে চলুন। ধোয়ার পর কাপড় ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৪. চুলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: রাতে চুলে অতিরিক্ত তেল বা প্রসাধনী ব্যবহার করলে তা বালিশের কভারে লেগে থাকতে পারে। তাই চুলের যত্নেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্ব দিন।
৫. অতিরিক্ত কভার রাখুন: কয়েকটি পরিষ্কার কভার হাতে রাখলে একটি ধোয়ার সময় অন্যটি ব্যবহার করা যাবে। এতে নিয়মিত কভার পরিবর্তন করাও সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
শুধু প্রসাধনী নয়, পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ
ত্বকের যত্ন মানেই শুধু ফেসওয়াশ, সিরাম কিংবা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার নয়। দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তাই নিয়মিত মুখ পরিষ্কারের পাশাপাশি বালিশের কভার, তোয়ালে ও মুখ মোছার কাপড়ও পরিষ্কার রাখুন। ছোট এই অভ্যাস ত্বকের পরিচর্যাকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করতে পারে।








