Logo

আমাদের হাত বেঁধে দিলে আপনারই ক্ষতি হবে: সরকারকে নোয়াব সভাপতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৫১
আমাদের হাত বেঁধে দিলে আপনারই ক্ষতি হবে: সরকারকে নোয়াব সভাপতি
নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী | ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরকারের প্রতি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব না করার আহ্বান জানিয়েছেন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, “দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।”

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৈঠকটি পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এতে অংশ নেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, অনলাইন এডিটর্স ফোরামের আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান পিন্টু এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট ও মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এ আলোচনার আয়োজন করে।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়। যারা ক্ষমতায় থেকে সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করতে চান, ক্ষমতা হারানোর পর তারাই আবার অন্যায়ের শিকার হতে পারেন। তাই আইন তৈরির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন থাকা প্রয়োজন। তবে সরকারের সমালোচনা এবং সাইবার অপরাধকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থাকবে। এই দুই বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা না হলে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়েও আপত্তি জানান নোয়াব সভাপতি। তাঁর মতে, এ ধরনের বিধান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদ প্রকাশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি। মতিউর রহমান চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনের ভিত্তিতেও কাউকে গ্রেফতারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত করার আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় আলোচনা আয়োজন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে আলোচকেরা প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সরকারের সমালোচনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। আইন তৈরির আগে ব্যাপক জনমত গ্রহণ এবং বিভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD