Logo

নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২৫ থেকে ৮৪ লাখ টাকা, লঙ্ঘনে কারাদণ্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৭:৩৮
নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২৫ থেকে ৮৪ লাখ টাকা, লঙ্ঘনে কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকার বেশি নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন না। এই ব্যয়সীমা নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীরা সেই তালিকার সিডিও পেয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় অবশ্যই ওই ভোটার তালিকা অনুযায়ী আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারিত হবে দুইটি হিসাবের যেটি বেশি হবে সেটির ভিত্তিতে। একটি হলো—ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে মোট ব্যয়, অন্যটি সর্বনিম্ন নির্ধারিত ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, কোনো আসনে ভোটার সংখ্যা কম হলেও প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন, এর কম নয়।

ভোটারসংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। সে হিসাবে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে ওই আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ ৩ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন, যা দেশের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা। ভোটারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা-১৯ আসনে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটার থাকায় ব্যয়সীমা দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গাজীপুর-১ আসনে ভোটার ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৯ জন, সেখানে ব্যয়সীমা ৭২ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ টাকা। চতুর্থ সর্বোচ্চ ভোটারসংখ্যার নোয়াখালী-৪ আসনে প্রার্থীরা প্রায় ৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

ভোটার তালিকা অনুযায়ী, আট লাখের বেশি ভোটার রয়েছে কেবল একটি আসনে এবং সাত লাখের বেশি ভোটার রয়েছে মোট তিনটি আসনে। ছয় লাখের বেশি ভোটার রয়েছে সাতটি সংসদীয় আসনে। এসব আসনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা আসনভেদে প্রায় ৬০ লাখ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।

পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসনের সংখ্যা ৫২টি। এসব আসনে নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ লাখ টাকার কিছু বেশি থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত। আবার চার লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসন রয়েছে ১১৩টি। এসব আসনে প্রার্থীরা প্রায় ৪০ লাখ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

তিন লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন আসনের সংখ্যা ১০৪টি। এসব আসনে প্রার্থীদের জন্য ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে। এছাড়া দুই লাখের বেশি ভোটার রয়েছে এমন ২০টি আসনে ব্যয়সীমা প্রায় ২৩ লাখ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে এসব আসনেও ন্যূনতম ব্যয়সীমা হিসেবে ২৫ লাখ টাকা কার্যকর থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার জানান, আগের আইনে সব আসনের জন্য সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। নতুন সংশোধিত আইনে ভোটারসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে প্রচারণার ব্যয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল থাকে। একই সঙ্গে ব্যয়সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানও কঠোর করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইনে নির্ধারিত ব্যয়সীমা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে বে-আইনি কার্যকলাপে দোষী হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে হিসাব করলে ব্যয়সীমা ২২ লাখ টাকার কিছু বেশি হলেও আইন অনুযায়ী এখানে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। একই কারণে যশোর-১ ও পিরোজপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা প্রযোজ্য হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বর্তমানে প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলীয়ভাবে দাখিল করা হয়েছে ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জমা পড়েছে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নতুন এই ব্যয়সীমা ও কঠোর নজরদারির ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা সহজ হবে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD