কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমান নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার বিমানবন্দরে আজ (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হলো ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক নিরাপত্তা মহড়া, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিমান চলাচল সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর সক্ষমতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী করা।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহড়াটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নির্দেশনা ও সুপারিশ অনুযায়ী এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি অনুসরণ করে আয়োজন করা হয়। মহড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য হুমকি—যেমন বিমান ছিনতাই বা বোমা হামলা—মোকাবিলায় প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা এবং অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।
মহড়ার দৃশ্যপটে দেখা যায়, সকাল ১০:৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে উড্য়ন করা BlueWave Airways এর ফ্লাইট নং BWA789 কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড্য়নের ১০ মিনিটের মধ্যে কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি ফোন আসে, যেখানে বলা হয় বিমানের ভেতরে একটি বোমা আছে। বিমানবন্দর পরিচালক দ্রুত ফুল এমার্জেন্সি ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার সক্রিয় করে বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল ইউনিটসহ সব সংস্থাকে কার্যক্রমে যুক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
মহড়ায় অংশ নেয়া সংস্থাগুলির মধ্যে ছিল বেবিচক, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা দল এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের মহড়া দুর্বলতা চিহ্নিত করতে এবং যাত্রী নিরাপত্তা ও সেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ। সফলভাবে সম্পন্ন এই মহড়া বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ, যা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছিল।
চেয়ারম্যান আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের মহড়া আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
বিজ্ঞাপন
মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচক সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান এবং বেবিচক সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল।








