Logo

দলগুলোর ইশতেহারে ১৫ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি চায় সুজন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:২০
দলগুলোর ইশতেহারে ১৫ দফা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি চায় সুজন
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখতে চায়। এ লক্ষ্য নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তত ১৫টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব দাবি তুলে ধরেন। সংলাপে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের ৫৪ বছরে বাংলাদেশে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার শিথিলতা ও গত ১৫ বছরে কার্যকর এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সেই ধারার বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন সূচনার প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকার তিনটি: বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

সুজনের মতে, এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’।

সংলাপে উল্লেখিত ১৫টি সংস্কারের মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো- জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে উপযুক্ত সংযোজন। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সনদের বৈধতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি। রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের পুনরাবৃত্তি রোধে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। বিচার বিভাগের চলমান সংস্কার সংহতকরণ। নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকরী ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব হবে। নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করা, সংসদের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার গঠন, ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ, নিয়মিত স্থানীয় নির্বাচন, সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা। বিশুদ্ধ বায়ু ও নিরাপদ পানীয় জলের সংকট সমাধান। ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মমর্যাদাশীল ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি। ইন্দো–প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গত পাঁচ দশকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে অবক্ষয় ঘটেছে তা না বদলালে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করার সংস্কৃতি ভাঙা না গেলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হবে না।

তিনি আরও বলেন, জনগণ আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না। তারা দেখতে চায় কে কী সংস্কার করবে, কীভাবে করবে এবং কত সময়ের মধ্যে করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারই শেষ পর্যন্ত জানাবে—কারা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবসম্মতভাবে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD