নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’ ও টোল ফ্রি হেল্পলাইন

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে চালু করা হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে উদ্বোধন করা হয় এই জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা। এ সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯, যার মাধ্যমে নাগরিকরা নিখোঁজ শিশুদের তথ্য সরাসরি জানাতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক মো. নুরাননবী, অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের কনভেনার সাদাত রহমান, সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাশরুর আরেফিন, গণমাধ্যমকর্মী দীপ্তি চৌধুরী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শিশু সুরক্ষা শাখা) মোহা. কামরুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
সিআইডি জানায়, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে শিশুর তথ্য সর্বোচ্চ দ্রুততা নিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ স্টেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার, ব্যাংকিং এটিএম বুথ, মেট্রোরেল, বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালের জায়ান্ট স্ক্রিনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব প্ল্যাটফর্মে ছবিসহ সংবাদটি প্রদর্শিত হবে। সীমান্ত দিয়ে নিখোঁজ শিশু পাচার রোধে বিজিবি ও সীমান্ত সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হবে।
সিআইডি জানিয়েছে, নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হবে। এই সময়ের মধ্যে শিশু উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। মুন অ্যালার্ট একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যা সিআইডি তদারকি করবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারও সহযোগিতা করবে।
বিজ্ঞাপন
উদ্বোধনকালে সিআইডি প্রধান আরও বলেন, কোনো শিশুর অশ্লীল বা যৌন নির্যাতনের ছবি মোবাইলে ধারণ হলে তা তৎক্ষণিকভাবে সিআইডির কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি সাধারণ মানুষকেও শিশু সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজ হন ৫ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তার। সাত দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুনতাহার ঘটনা স্মরণীয় রেখে এবং ভবিষ্যতে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হলো।








