Logo

ঢাকা জেলার আওতায় আসছে পূর্বাচল, নিকার সভায় অনুমোদন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই, ২০২৬, ১৫:১৯
ঢাকা জেলার আওতায় আসছে পূর্বাচল, নিকার সভায় অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অদূরে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে সম্পূর্ণভাবে ঢাকা জেলার প্রশাসনিক আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জেলার প্রশাসনিক সীমার মধ্যে থাকায় সেবা কার্যক্রম ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় যে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, তা দূর করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়। বৈঠকে মোট ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। নতুন তিনটি উপজেলা গঠনের পাশাপাশি পূর্বাচলকে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও ওই বৈঠকে গৃহীত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অধিকাংশ এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং বাকি অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। একই প্রকল্প তিন জেলার প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছিল।

এসব সমস্যা দূর করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরো প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা জেলার অধীনে আনার প্রস্তাব নিকারের কাছে উপস্থাপন করে। পর্যালোচনা শেষে কমিটি সেই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এদিকে একই দিনে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে পূর্বাচলের সেক্টর-১ এলাকায় নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রাজউকের সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প চালুর মধ্য দিয়ে পূর্বাচলে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর হিসেবে পূর্বাচলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি জানান, পূর্বাচল এলাকায় ডিএমপির অধীনে চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে মোট ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইজিপির ভাষ্য, পূর্বাচলের আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নতুন থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রাজউক ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পুরো পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে সম্পূর্ণভাবে ডিএমপির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক একটি পুলিশ বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD