পূর্বাচলে হবে ৪ থানা, ৬ তদন্ত কেন্দ্র ও ৪১ পুলিশ বক্স

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ভবিষ্যতের ‘নতুন ঢাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা জোরদারে বড় পরিসরের পুলিশ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় সেখানে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে পূর্বাচলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে পূর্বাচলকে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র ও ২টি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি ৩টি ডিসি কার্যালয় এবং বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
আরও পড়ুন: সংসদ অধিবেশন ৭ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি
বিজ্ঞাপন
আইজিপি জানান, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট থানা ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। পরে রাজউক বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ধাপে ধাপে মোট ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে পৃথক একটি বিভাগ গঠন করা হবে। ওই বিভাগ একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন পুলিশ সদস্যের জনবল সৃষ্টির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
আইজিপির ভাষ্য, পূর্বাচলে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প চালু হওয়া সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার অংশ। এর ফলে রাজধানী ঢাকার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিক সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাও আরও সুসংগঠিত হবে। এটি নগরায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি হলো ১ নম্বর সেক্টরের বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প, যা ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্য ক্যাম্পটির নির্মাণকাজ চলমান এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে সেটিও চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে থানা ও তদন্ত কেন্দ্রগুলোও স্থাপন করা হবে।








