Logo

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন বেটিংয়ে জরিমানা ৫ কোটি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন, ২০২৬, ১৮:০৩
সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস, অনলাইন বেটিংয়ে জরিমানা ৫ কোটি
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন জুয়া, বেটিং ও প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো The Public Gambling Act, 1867 বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বুকমেকার, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএনসহ মোট ২৪টি বিষয়কে আইনি সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে এটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিলটি পাস হয়। আইন অনুযায়ী, সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আর অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা এতে সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিংবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত রাখতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী কিংবা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্লাউড সার্ভার বা ডোমেইন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। একইভাবে ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে এসব অপরাধ করলে শাস্তি বেড়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনে জুয়ার অর্থ বা অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে।

অনলাইন জুয়া ও সাইবারভিত্তিক অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আইনের আওতায় থাকা সব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের আশা, নতুন এই আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD