Logo

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, কার্যকর ১ জুলাই

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন, ২০২৬, ১৬:৫১
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, কার্যকর ১ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের এই বাজেট আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে। বাজেটে কর, ভ্যাট, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বাজেটটি পাস হয়।

এর আগে সোমবার কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থবিল পাসের মাধ্যমে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্দিষ্টকরণ আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। কিছু প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সেগুলো নাকচ করা হয়। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাকি ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করলে দ্রুত মঞ্জুরি দাবিগুলো পাস হয়।

নির্দিষ্টকরণ বিল অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রপতিকে সংযুক্ত তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংসদে গৃহীত বরাদ্দের পরিমাণ ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং বাকি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের দায় হিসেবে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর বহির্ভূত খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজেটে মোট ঘাটতি রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভর করবে। ঘাটতির প্রায় ৪৬ শতাংশ বিদেশি উৎস থেকে এবং বাকি ৫৪ শতাংশ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ, সমাজকল্যাণ ও পানি সম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD