শিক্ষার্থীদের বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রতি বছরে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ রক্ষা, বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি এ উদ্যোগকে একটি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেখানে বসবাস করে, যে মাঠে খেলাধুলা করে কিংবা যে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে—সেসব জায়গার যেকোনো একটি স্থানে প্রতি বছর অন্তত একটি গাছের চারা রোপণ করা উচিত। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, তারা এ উদ্যোগে অংশ নেবে কি না। জবাবে মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বিজ্ঞাপন
বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার কারণে দেশে ব্যাপকভাবে গাছপালা কমে গেছে। এর প্রভাবে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই এখন থেকেই সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের উদ্যোগে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে এবং সেটির পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও স্টার্টআপ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বিজ্ঞাপন
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা আলিম মাদ্রাসা।
পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও শিক্ষার্থীদের বিশেষ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের রাস্তাঘাট ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। বাইরে থেকে কেউ এসে পরিবেশ নোংরা করে না; বরং দেশের মানুষই অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ যদি জনসমাগমস্থলে ময়লা ফেলে, তাহলে তাকে সচেতন করতে হবে এবং নিজেরাও যতটা সম্ভব সেই স্থান পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। ছোট ছোট সচেতন উদ্যোগই একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাঁধেই থাকবে। প্রবীণরা পথ দেখাতে পারেন, সূচনা করে যেতে পারেন; কিন্তু দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব তরুণদেরই পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।








