Logo

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন, ২০২৬, ১৩:১৫
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। বক্তব্যে তিনি অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জনগণের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ তিস্তা ও পানির ন্যায্য হিস্যা। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষিতে সারা বছর সেচ নিশ্চিত করতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় কৃষিবান্ধব নীতিতে বিশ্বাসী। অতীতেও কৃষকের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় কাজ করছে।

কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক এলাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানি পান না। এই সমস্যা সমাধানে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় গত তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহেই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ চলছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি বছর আড়াই হাজার টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন এবং সফটওয়্যার খাতকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় এনে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এছাড়া ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সম্মানী কাঠামো চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ‘স্পোর্টস’কে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে একটি ক্রীড়াভিত্তিক কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, নতুন নতুন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। বিদেশে অবস্থানরত এবং দেশে ফেরা প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ দক্ষ, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD