Logo

লোডশেডিং নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০:১৩
লোডশেডিং নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের জন্য জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস সংকটের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত ও অসহায়-দরিদ্রদের মধ্যে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গ্যাস সংকট কাটাতে সময় লাগবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকটের পেছনে অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সরকার দেশে তৃতীয় একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণসহ বড় অবকাঠামো তৈরি করতে সময় লাগে। তাই দ্রুত সংকট সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনার অভিযোগ তুলে বিরোধীদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেউ পেছনে ফ্যানের বাতাস খেয়ে হাতে হারিকেন নিয়ে বসে ‘গ্যাস দাও, বিদ্যুৎ দাও’ বললে সেটি সংকট সমাধানের পথ নয়। তার ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড হঠকারিতার শামিল।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারে, তাহলে সরকার তা গ্রহণ করবে। তবে কার্যকর সমাধান দিতে না পারলে বিভ্রান্তির রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, জনগণের উপকারে আসে—এমন কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির রাজনীতির দিন শেষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সমালোচনা করা সহজ, জনগণের জন্য কাজ করুন’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা করা সহজ হলেও বাস্তবে মানুষের জন্য কাজ করা কঠিন। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে জনগণের স্বার্থে মাঠে নেমে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, এমন কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার কারণে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে তারা রাজনৈতিক ভুল করেছে। এখন উসকানি ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

২০ কোটি মানুষের শ্রমকে কাজে লাগানোর আহ্বান

বিজ্ঞাপন

দেশের উন্নয়নে মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রম ও উৎপাদনের শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

তার মতে, ব্যক্তিগতভাবে কে কী পেলেন, সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বরং দেশের মানুষের জন্য কে কতটা কাজ করতে পারলেন, সেটিই বড় বিষয়।

দেশ গঠনে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যে পথ দেখিয়েছেন, তা অনুসরণের কথাও বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সরকারের বয়স ছয় মাস, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

নিজের সরকারের কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একটি শিশুর হাঁটতে শেখার জন্যও প্রায় এক বছর সময় লাগে। সেখানে বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস।

তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ধাপে ধাপে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেরও তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, মেগাপ্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তার দাবি, বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ দেনা রেখে যাওয়া হয়েছে। এর প্রভাবেই বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের চাপ সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

দেশে নিজস্ব গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও নতুন কূপ খননে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি খাত বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাত নিয়েও তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল।

গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও গণতন্ত্র বিভিন্ন সময়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

জনগণের কল্যাণে যেসব উদ্যোগ প্রয়োজন, সরকার সেসব পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা তৈরি, এলএনজি আমদানি ও নতুন টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD