Logo

দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন, ২০২৬, ১৯:৩২
দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
ফাইল ছবি।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অব্যাহত বর্ষণের প্রভাবে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার নদীর পানি পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদী বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিনে সেখানে নদীটির পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে যাদুকাটা নদী সতর্ক সীমায় রয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। এছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আরও তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে আগামী তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন, অর্থাৎ ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যান্য প্রধান অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিন পর আবার বাড়তে পারে। একই সময়ে পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও দুটি নদীই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বাড়লেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন এ পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলের প্লাবন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে কুড়িগ্রামে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বাড়লেও ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কমেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না। একই সময়ে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া, ফেনী ও সাঙ্গু নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD