Logo

তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন, ২০২৬, ১৭:১৪
তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না
ছবি: সংগৃহীত

দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তারা দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা, নীতিগত দুর্বলতা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে। তাঁর ভাষ্য, উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে যায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হয় এবং পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝাও এখন রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তবতা অস্বীকার করছে না। তবে এই সংকটকে কোনোভাবেই অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং কার্যকর নীতির মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করেছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার কারণে অর্থনীতির ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল, সেটিও সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন একটি জটিল অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পণ করেছে, তা যথাযথভাবে পালনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষায়, সরকারের নীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

বিজ্ঞাপন

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটকে তিনি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে সীমিতসংখ্যক সুবিধাভোগীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেটিই মূল বিষয় নয়; বরং প্রকল্পটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কৌশল ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্বব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর শেষ ধাপে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেলেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তানির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ বা রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি রপ্তানিমুখী, উদ্ভাবনভিত্তিক এবং টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে, যেখানে তরুণরাই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD