Logo

বিসিএস নিয়োগে বড় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৩৯
বিসিএস নিয়োগে বড় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জটিলতা এবং অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। নতুন পরিকল্পনার আওতায় নিয়োগ ব্যবস্থায় গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ এক প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব নেওয়া নতুন কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

পিএসসি জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘ বিলম্ব কমাতে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় একটি বিসিএস পরীক্ষা এক বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নিয়োগের মানোন্নয়নে পরীক্ষার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে, যাতে প্রার্থীদের মেধা যাচাই আরও কার্যকরভাবে করা যায়।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে পিএসসি নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে যেখানে আগে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লাগত, সেখানে এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে প্রার্থীবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, এক সময় কমিশন কার্যত অকার্যকর অবস্থায় চলে গিয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, কার্যকর এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন উদ্যোগগুলোর ফলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সংস্কার কেবল বিসিএসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফল প্রকাশ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

এছাড়া নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে পিএসসি। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD