Logo

রাজধানীতে দুই কৃষিবিদ কর্মকর্তার ধস্তাধস্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুন, ২০২৬, ১২:০৮
রাজধানীতে দুই কৃষিবিদ কর্মকর্তার ধস্তাধস্তি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশাসন-২) এ এম মাসুম বিল্লাহ ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (আমদানী) বনি আমিন খানের মধ্যে ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) সন্ধা ৭ টার দিকে কেআইবির সম্মেলন কক্ষে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু-জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বনি আমিন উত্তেজিত হয়ে মাসুম বিল্লাহকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়, এতে দুজনেই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জের ধরে বনি আমিন খান বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে এ এম মাসুম বিল্লাহকে কেআইবি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

জানা যায়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এ্যাব পাবনা জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশাসন-২) এ এম মাসুম বিল্লাহর চাকুরীজীবনের বিগত সময়ের সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহনের ছবি সংশ্লিষ্ট উপজেলা থেকে সংগ্রহ করেন বনি আমিন খান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে মাসুম বিল্লাহকে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়ে এ সমস্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করেন বনি আমিন খান। এদিকে কেআইবি চত্বরে হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান বনি আমিন খান।

এ ব্যাপারে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব বলেন, বনি আমিন খান ও মাসুম বিল্লাহর মধ্যে যা ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। সিনিয়র কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দ বসে তাদের মধ্যে সমযোতা করে দিয়েছে। আশাকরি ভবিষ্যতে এ নিয়ে আর কোন বাড়াবাড়ি হবেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষিবিদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বহিরাগত সন্ত্রাসী ডেকে এনে এ এম মাসুম বিল্লাহকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া একজন চিহ্নিত জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদের চরিত্র হননের যে চেষ্টা বনি আমিন খান করেছেন তারও বিচার চায় জাতীয়তাবাদী কৃষিবিদ সমাজ।

বিজ্ঞাপন

ধস্তাধস্তির বিষয়ে এ এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত এ্যাব নেতাদের সামনে আমি স্যারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

উল্লেখ্য, বনি আমিন খান একজন দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পরিচিত। ৫ আগষ্ট বা গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর লোগো ছিল এই কর্মকর্তার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার। দুর্নীতির কারনে তাকে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (আমদানী) থেকে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (ফুল ও ফল) পদে বদলী করে কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু ৪ মাসের বেশী সময় পার হলেও মন্ত্রণালয়ের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে তিনি এখনো পূর্বের পদ আকড়ে বসে আছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD