নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীরা গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে গেলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব বর্তাবে বর্তমান প্রজন্মের কাঁধে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী, ক্রিকেটার, সাঁতারু, টেনিস খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের সেরা ব্যক্তিত্ব উঠে আসবে। তাই নিজেকে কখনো ছোট করে না দেখে দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের সাফল্য ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং সংবাদমাধ্যমেও তা যথাযথ গুরুত্ব পাবে।
বিজ্ঞাপন
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা ধীরে ধীরে দূর করতে সরকার কাজ করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পায়।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এই আয়োজন থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের উন্নয়নের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কারা কাজ করবে’—এমন প্রশ্ন করলে হাজারো কিশোর-কিশোরী হাত তুলে সম্মতি জানায়। এ সময় তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে এবং খেলার সময়ও একই আন্তরিকতায় অংশ নিতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর জোর
পরিবেশ সংরক্ষণে শিশু-কিশোরদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ির আশপাশ কিংবা নদী-খাল-পুকুরে কেউ প্লাস্টিক বা ময়লা ফেললে তা থেকে বিরত থাকতে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জলাশয় পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে পরিবেশ সুরক্ষিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাবে।
শিশুদের সার্বিক বিকাশে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পড়াশোনা, খেলাধুলা, সংগীত কিংবা চিত্রাঙ্কনে এগিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এর জন্য শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজকের শিশু-কিশোরদের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমান সরকার উন্নয়নের পথচলা শুরু করেছে, আর সেই অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সন্তানদের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে অবদান রাখা অভিভাবক, শিক্ষক ও কোচদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এবারের প্রতিযোগিতায় ফুটবলের বালক বিভাগে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকা বিভাগে রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ক্রেস্ট, মেডেল ও চেক প্রদান করেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য দেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করেন। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ের খেলা রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়।








