আনসারের সততা ও তৎপরতায় উদ্ধার ৯৮ হাজার রিয়াল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ হিসেবে দেওয়া অর্থের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সততা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক আনসার সদস্য। তার তৎপরতায় দুবাইগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে ৯৮ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সৌদি রিয়ালের বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেভি লাগেজের ৪ নম্বর গেটে প্রবেশের সময় চেকিং করা হচ্ছিল। এ সময় দুবাইগামী যাত্রী মোহাম্মদ হালিমের চলাফেরা ও গতিবিধি কর্তব্যরত আনসার সদস্য পিসি মো. নিজাম উদ্দিনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
চেকিংয়ের সময় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই যাত্রী। একপর্যায়ে পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে দায়িত্বের প্রতি অবিচল থেকে ওই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন আনসার সদস্য। একই সঙ্গে বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিফটে দায়িত্ব পালনরত উপজেলা প্রশিক্ষক ওমর ফারুককে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশিক্ষক ওমর ফারুক দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি পিসি মো. আলমগীর হোসেন ও আনসার সদস্য চঞ্চল সাদেক রানাকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ওই যাত্রীর সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে যাত্রীর কাছ থেকে ৯৮ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে শিফট ইনচার্জ আটক যাত্রী মোহাম্মদ হালিম এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ৯৮ হাজার সৌদি রিয়াল বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে।
আটক যাত্রী মোহাম্মদ হালিম কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জজ মিয়া।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করার সময় ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আনসার সদস্যের তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ বাহিনীর সততা, পেশাদারিত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এমন দৃঢ়তা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।
জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যাত্রীদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিরোধেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ওই আনসার সদস্যের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল উদ্ধারের ঘটনা দায়িত্ব পালনে সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
বিজ্ঞাপন








