বিয়ে না করলে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী-স্বামী

মৃত সরকারি কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। তবে পেনশন পাওয়ার সময় পুনর্বিবাহ করেননি—এ মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
বিজ্ঞাপন
সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন বিভিন্ন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করে জারি করা নতুন আদেশে এ বিধান রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষরিত আদেশে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন, আনুতোষিক, ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন অবসর সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেনশনের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ
বিজ্ঞাপন
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি হলে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
৫ বছর চাকরিতে গ্রস পেনশনের হার ২১ শতাংশ। এরপর চাকরিকাল বাড়ার সঙ্গে এ হারও বাড়বে। ১০ বছরে ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ২০ বছরে ৭২ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে গ্রস পেনশনের হার হবে ৯০ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনশন প্রাপ্য হবে। নিয়মিত অবসান, মৃত্যুবরণ, স্থায়ীভাবে অক্ষমতা কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
নিট পেনশনে পরিবর্তন
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পেনশনভোগীদের নতুন নিট পেনশন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া নিট পেনশনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা হবে।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ১৮ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। নতুন পেনশন হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন হবে ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।
৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে যেসব বিদ্যমান পেনশনভোগী এরই মধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তারা ১ জুলাই ২০২৭-এর আগে বর্তমানে পাওয়া নিট পেনশনই পাবেন।
বিজ্ঞাপন
আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত
সরকারি কর্মচারীদের আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম পেনশনযোগ্য চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় ২৬৫ টাকা হারে আনুতোষিক পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিতে ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা হারে আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু বা অক্ষমতায় সহায়তা
কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু হলে বা স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য সর্বশেষ আহরিত তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে এ সহায়তা কর্মচারী বা তার পরিবার পাবে।
অবসরে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন
অবসরের সময় অর্জিত ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যাবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়া যাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক ও প্রজ্ঞাপনগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এসব পরিবর্তন কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে ওই তারিখে পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্নির্ধারিত সুবিধা পাবেন।








