Logo

দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি পৌঁছানোর লক্ষ্য সরকারের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪
দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি পৌঁছানোর লক্ষ্য সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও টেলিযোগাযোগ খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আইসিটি ও টেলিকম খাত বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। আগামী দিনে এ খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, ওয়্যারলেস ও ওয়্যারলাইন সংযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, ‘ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। সরকার এ খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম এবং ফাইবারভিত্তিক সংযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাও প্রয়োজন। ইন্টারনেটের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি জানান, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন ট্রেন ও বিমানবন্দরে উচ্চগতির বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে, যার সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। অধিবেশন শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD