তীব্র গ্যাস সংকটে চালকদের আয় কমেছে, কমেনি মালিকদের জমা

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে সামান্য পরিমাণ গ্যাস মিললেও তা দিয়ে আগের মতো ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। তবে আয় কমে গেলেও মালিকদের নির্ধারিত দৈনিক জমার পরিমাণ কমেনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে চালকদের এমন দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে।
ষাটোর্ধ্ব চালক নরুল ইসলাম মেরুল বাড্ডার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি রেখে অপেক্ষা করছিলেন। কখন লাইনের চাপ কমবে এবং গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পাবেন, সেই অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নরুল ইসলাম জানান, আগের রাতে টানা পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২২০ টাকার গ্যাস পেয়েছিলেন। সেই গ্যাসে পরদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে পেরেছেন। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে তার আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে মালিককে জমা দিতে হবে ১ হাজার ১৫০ টাকা। এরপর আবার যদি ২০০ টাকার গ্যাস নিতে হয়, তাহলে দিন শেষে তার হাতে থাকবে মাত্র ৫৫০ টাকা।
তার দাবি, আগে গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে এখন সেই আয় অনেকটাই কমে গেছে।
জমার পরিমাণ কমেছে কি না জানতে চাইলে নরুল ইসলাম বলেন, ‘জমা এক টাকাও কমায়নি। এক-দুইশো টাকা কম দিলেও যাওয়ার সময় আবার বলে, পরে দিয়ে দিও।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিকেল ৫টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন তেজগাঁওয়ের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেক চালক গাড়ির সামনের অংশ ধরে টেনে টেনে পাম্পের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। লাইনে থাকা অধিকাংশ গাড়ির গ্যাস প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল।
চালক সাইফুল বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাম্পে গ্যাস দেওয়ার সুযোগ মিলছে। গ্যাস শেষ হওয়ার আগেই পাম্পের সামনে পৌঁছালেও গ্যাস না দেওয়া পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েই থাকতে হয়।
তিনি বলেন, ‘গ্যাস ছাড়া সিএনজি নিয়ে কোথায় যাব? এখন এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাম্পের কাছাকাছি এসেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কত টাকার গ্যাস পাব, সেটাই জানি না। গভীর রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখন বাসায় ফিরব, কখন খাব, কখন ঘুমাব—কোনো ঠিক নেই। আবার সকাল হলেই গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আয় কমে যাওয়ার পরও মালিক দৈনিক জমা কমিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সাইফুলের উত্তর, ‘এক টাকাও কম নেয় না।’
রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশার সারাদিনের নির্ধারিত জমা সাধারণত ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর অর্ধদিবসের জন্য জমা দিতে হয় ৮০০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, কমে যাচ্ছে ট্রিপ ও আয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় মালিকদের নির্ধারিত জমার পরিমাণে কোনো ছাড় মিলছে না। ফলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে তাদের কর্মঘণ্টা, ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ।







