Logo

যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে মাঠে সেতু সচিব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৩৯
যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে মাঠে সেতু সচিব
ছবি প্রতিনিধি।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শতভাগ নগদবিহীন, আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় এবং পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করেছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পদ্মা সেতু সাইট অফিস এবং কচুয়া-বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি প্রকল্প দুটির অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ, প্রকল্প পরিচালক, পদ্মা সেতু সাইট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পায়রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর সেতু সচিব ও অতিরিক্ত সচিব সাইট অফিস প্রাঙ্গণে বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। একই সঙ্গে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার গাছ লাগানোর কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটিতে মোট দুই হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মা সেতু এলাকায় চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত ১৫ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে সাত হাজার ৬২২টি গাছ লাগানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট গাছ রোপণের কাজ চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন শেষে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে বিশ্বমানের, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রতিটি কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেতু, উড়ালসড়ক ও টানেলে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকরভাবে চালু করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবুজায়ন কর্মসূচি কেবল বৃক্ষরোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নির্ধারিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরে প্রকল্পের সাইট অফিসের সম্মেলন কক্ষে সেতু সচিবের সভাপতিত্বে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চলমান কাজ, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান সেতু সচিব। তিনি বলেন, সেতুর টোল ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা সর্বজনীন করতে হবে। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে এবং টোল আদায় আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনাও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সহজ ও দ্রুত সেবা পাবেন।

বিজ্ঞাপন

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সমন্বিত জাতীয় ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ কাঠামোসহ জনবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD