২০ বছর পর দুর্গন্ধমুক্ত হচ্ছে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর সড়ক

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা জেলার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে জমে থাকা বর্জ্য, তীব্র দুর্গন্ধ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবশেষে প্রায় দুই দশক পর ওই সড়ককে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ জুলাই) আমিনবাজার-হেমায়েতপুর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। উদ্বোধনের পর তিনি চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ এবং দুর্গন্ধপূর্ণ পরিবেশ সরেজমিনে দেখেন। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা এবং এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কাজ শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
শনিবারের পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের আওতায় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সব বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হবে। এতে শুধু দুর্গন্ধ দূর হবে না, পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। ঢাল সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানির কারণে মাটি ধসে না পড়ে এবং সড়কের স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
বিজ্ঞাপন
পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নিম, সুপারি, নারিকেলসহ উপযোগী বৃক্ষ লাগিয়ে পুরো এলাকাকে সবুজ বেষ্টনীতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পথচারীরাও একটি মনোরম পরিবেশ পাবেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে কেউ আবার সড়কের পাশে অবৈধভাবে ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে উঁচু বেড়া নির্মাণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত মনিটরিং পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো সড়ককে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও নান্দনিক পরিবেশে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, শুধু বর্জ্য অপসারণ করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় সেখানে ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে টেকসই করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর সড়ক শুধু পরিচ্ছন্নই হবে না, রাজধানীর প্রবেশপথগুলোর অন্যতম একটি নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করিডোরে পরিণত হবে।








