Logo

৩৫ বছর পর আবারও ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১
৩৫ বছর পর আবারও ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি
বঙ্গভবন | ফাইল ছবি

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ না পেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। এবার আবারও সেই প্রক্রিয়ায় ফিরছে দেশ।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কী হয়েছিল

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২টি ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ১৪০টি আসন ছিল। আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৮৮টি। জাতীয় পার্টির ছিল ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন।

এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সংসদ সদস্য ছিলেন। সেই সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটে সব সংসদ সদস্য অংশ নেননি। ওই সময় ৬০ জন সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবিও ভোটদানে বিরত ছিল। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।

বিজ্ঞাপন

স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আবদুর রহমান বিশ্বাসের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ভোট দেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু ভোটের সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

এ ছাড়া ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

এবারও সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না

বিজ্ঞাপন

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া আবার শুরু হলেও এবারও সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

অর্থাৎ এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সরাসরি জনগণের ভোটে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন নয়। সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোন দলের কতজন সংসদ সদস্য রয়েছেন, তার ওপরই মূলত প্রার্থীদের ভোট পাওয়ার হিসাব নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল আলি আহমদ

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) আলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। ইতোমধ্যে তার পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপিও তাদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দল এখনো তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

বিজ্ঞাপন

ফলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো কিছুটা অপেক্ষা রয়েছে।

সংসদের বর্তমান সমীকরণে বিএনপি এগিয়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩৫০। স্বতন্ত্র সদস্য বাদ দিলে সংসদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭টি আসন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে ৭৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির রয়েছে ৮টি আসন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে ৩টি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। তাই কোনো প্রার্থী কত ভোট পাবেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে সংসদের বর্তমান দলীয় শক্তির ওপর।

বিএনপির প্রার্থী জয়ের দৌড়ে এগিয়ে

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সংসদীয় হিসাব অনুযায়ী বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটি তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন, প্রার্থিতা এবং ভোটের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতি হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতির শেষে আবারও সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় এবারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিজ্ঞাপন

৩৫ বছর আগের নির্বাচনের মতো এবারও সাধারণ মানুষের পরিবর্তে সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল ভোটার। তবে তৎকালীন সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদের দলীয় শক্তির বিন্যাস সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই কারণেই এবারের নির্বাচনে ভোটের ফল নির্ধারণে দলীয় আসনসংখ্যা এবং রাজনৈতিক জোটের অবস্থান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD