Logo

গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:১০
গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি জায়গায় সংশোধন এনে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন তদন্তের সময় কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে। একই সঙ্গে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ঘটনার তদন্ত করতে পারবে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিলটিতে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ইউনিটকে যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ধরনের পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। খসড়া বিলে আগে পূর্বানুমতির বিধান থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। সংসদীয় কমিটির সুপারিশে সেই বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী এবং একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এর আগে ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ বাতিল করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই ২০২৬ সালের এই বিল আনা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধনগুলোসহ বিলটি সংসদে উপস্থাপনের পর এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদের বিবেচনায় আসবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD