খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ

দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজ, ধুলাবালি ও যানজটের ভোগান্তির পর অবশেষে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ। ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু এখন ব্যবহার করতে পারছেন যানবাহন চালকরা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে প্রকল্পের আংশিক অংশের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পরই সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য চালু করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
বিজ্ঞাপন
নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে বদল
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হবে না। এর পরিবর্তে সার্ভিস লেন ব্যবহার করে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিটি সার্ভিস সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বর্তমানে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার অংশ।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সংযোগ চালু হওয়ায় এই পথে যান চলাচলে গতি বাড়বে। একই সঙ্গে তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সেতু দুটি চালুর পর স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে ধীরগতি ও যানজটে ভোগা সাভার-আশুলিয়া এলাকার মানুষ নতুন এই সংযোগকে দুর্ভোগ কমানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
২৪ কিলোমিটার প্রকল্পে অগ্রগতি ৭২ শতাংশ
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর।
একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় তা ধীরগতিতে এগিয়েছে। এর ফলে সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের লাখো মানুষকে বছরের পর বছর নির্মাণকাজজনিত ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের গতি বেড়েছে। জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধনের পর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
সংশোধিত নকশায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। এছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ।








