Logo

রপ্তানি বাড়াতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, অংশ নেবে ২০০ স্টল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৫৪
রপ্তানি বাড়াতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, অংশ নেবে ২০০ স্টল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো–ঢাকা ২০২৬’। আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিগ ওয়েভ) এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ এক্সপোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক্সপোর প্রস্তুতি উপলক্ষে ঢাকার একটি হোটেলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, চেম্বার প্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ‘ভিউ এক্সচেঞ্জ’ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, গত বছর এ এক্সপোর প্রথম সংস্করণ আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এসএমই উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বিদেশি ক্রেতাদের সামনে দেশীয় পণ্য তুলে ধরতে এটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এবার ১২টি খাত, থাকবে ২০০টির বেশি স্টল

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জানান, গত বছরের আটটি খাত থেকে এবারের আয়োজনে পরিধি বাড়িয়ে ১২টি খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরার সুযোগ বাড়বে। এবারের এক্সপোতে ২০০টির বেশি স্টল থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এক্সপোকে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিনার, বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) সভা, অনলাইন ম্যাচমেকিং পোর্টালের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ, নেটওয়ার্কিং এবং কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, ঢাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক ক্রেতা সমিতি ও যৌথ বাণিজ্য চেম্বারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি ক্রেতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা

এক্সপোতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ সহজ করতে নিবন্ধিত ক্রেতাদের জন্য হোটেলে বিশেষ মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের কথা সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ব্যবহারকারী অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সুযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশীয় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এতে এক্সপোর কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।

নতুন বাজার ও রপ্তানি সম্ভাবনায় গুরুত্ব

সভায় ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা এক্সপোর আন্তর্জাতিক প্রচার বাড়ানো, বিদেশি ক্রেতাদের সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের মতে, আগেভাগে মেলার তারিখ নির্ধারণ, মানসম্মত পণ্য নির্বাচন, আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং মেলা শেষে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগকে বাস্তব রপ্তানি আদেশে রূপান্তরের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য, মৎস্য, পাট, আসবাবপত্র ও ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা সম্ভাবনাময় পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স-সংক্রান্ত জটিলতা কমানো, নীতিমালা সময়োপযোগী করা, বুথমূল্য বিবেচনা এবং রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রচারে বরাদ্দ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের কথাও বলেন। বিশেষ করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারে নতুন ক্রেতা অনুসন্ধান এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আগাম যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নারী উদ্যোক্তা ও এসএমইদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব

এক্সপোতে নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (WEAB) প্রতিনিধি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো, নারী পরিচালিত এসএমই প্রতিষ্ঠানের বুথ স্পনসরশিপ এবং তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন।

সভায় বুথ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখা, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

আয়োজকদের আশা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, রপ্তানিকারক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো–ঢাকা ২০২৬ দেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD