স্বস্তির বৃষ্টিতে আমন রোপণে ব্যস্ত ফুলবাড়ীর কৃষকরা

ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র খরতাপের পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ক্ষেতে পুরোদমে রোপা আমন চারা রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার আমন চাষিরা। জম...
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র খরতাপের পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ক্ষেতে পুরোদমে রোপা আমন চারা রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার আমন চাষিরা। জমিতে চাষ, আগাছা পরিস্কার, পানি দেয়া, রাসায়নিক সার ছিটানোসহ আমন চাষের নানা কাজে ব্যস্ত সময় পারছেন তারা।
রোববার (৭ আগস্ট) সকালে পৌর এলাকাসহ উপজেলার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘বর্ষার পানিতেই আমন চাষের যাবতীয় কাজ হয়ে থাকে। এতে কৃষকদের সেচ খরচ তেমন লাগে না। কিন্তু এবার হয়েছে ব্যতিক্রম। বর্ষার সময় অনাবৃষ্টিসহ খরতাপে জমি মাটি ফেটে গেছে, রোদে পুড়েছে বীজতলা। বাধ্য হয়ে অবস্থা সম্পন্ন কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে জমিতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচের মাধ্যমে আমন চাষাবাদ শুরু করতে বাধ্য হন। এরই মধ্যে দেরিতে হলেও দেখা মিলেছে স্বস্তির টানা বৃষ্টির। স্বস্তির বৃষ্টি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে স্থানীয় চাষিরা মাঠে নেমে পড়েছেন কোমড় বেঁধে আমন আবাদে।’
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন চাষ মৌসুমে পৌরএলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত এখন পর্যন্ত চাষাবাদ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে।
উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক নবিউল ইসলাম, খাদেমুল ইসলাম ও বাবলু ইসলাম, খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকায় আমন চাষি ইছাহাক হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, “অনেকেই বৃষ্টির অপেক্ষায় দেরি করেও কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা না পেয়ে অগভীর নলকূপসহ শ্যালো মেশিনে পানি দিয়ে জমিতে আমন চারা রোপণ করেছেন। আবার অনেকে বৃষ্টির পর জমিতে চারা রোপণ করছেন। দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবাই একযোগে চারা লাগানোর কারণে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের পাশাপাশি অনেকে নিজেরাই জমিতে কাজে লেগে গেছেন। আমন চাষ পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর হলেও এবার যে পরিস্থিতি, তাতে পরবর্তী সময় আবারও সেচের প্রয়োজন হতে পারে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। খরচ অনুপাতে দাম পাবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান জনবাণীকে বলেন, “বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষাবাদে একটু দেরি হয়ে গেছে। আষাঢ়ের শেষ থেকে শ্রাবণ মাস আমন চারা রোপনের উপযুক্ত সময়। এখন শ্রাবণ চলছে, এ মাসের মধ্যেই আমন রোপণ হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে।”
বিজ্ঞাপন
এসএ/








