Logo

জ‌মে উঠেছে শতাব্দী প্রাচীন মুন্সীগ‌ঞ্জে দিঘীরপাড় পাটের হাট

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২৩:৪৬
জ‌মে উঠেছে শতাব্দী প্রাচীন মুন্সীগ‌ঞ্জে দিঘীরপাড় পাটের হাট
ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী দিঘীরপাড়ের পদ্মার শাখা নদীর তীরে জমে উঠেছে ভাসমান পাটের হাট। মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত পাট বেচাকেনা হ...

বিজ্ঞাপন

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী দিঘীরপাড়ের পদ্মার শাখা নদীর তীরে জমে উঠেছে ভাসমান পাটের হাট। মুন্সিগঞ্জ ছাড়াও দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত পাট বেচাকেনা হয় এই হাটে। সারি সারি নৌযানে চলছে বেচাকেনা। জৈষ্ঠ্য থেকে শ্রাবণ-ভাদ্র মাস পর্যন্ত প্রতি  সোম ও শুক্রবার (১২ আগস্ট) ভোর থেকে বসছে হাট। পাইকাররা পাট ক্রয় করে নিচ্ছে নারায়নগঞ্জ, নরসিংদীর বিভিন্ন জেলার কারখানায়। বর্তমানে দরদামও রয়েছে সন্তোষজনক। তবে গতবছরের চেয়ে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে এবছর লাভের অংশ কমেছে বলে বলছে কৃষকরা। প্রয়োজনের চেয়ে কম বৃষ্টি পাতের ফরে এদিকে পর্যাপ্ত পানির সংকটে অনেক স্থানে পাট পচানোতে দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা, সেসব পাটের মান খারাপে দামও মিলছে কম।

সরজমিনে দেখা যায়,  পদ্মা, মেঘনা নদী হয়ে ট্রলার নৌকায় দিঘীরপাড়ে আসছে হাজার হাজার মণ পাট। বিক্রির মৌসুমে জমজমাট পদ্মার শাখা নদীর তীরের শতাব্দী প্রাচীন এই ভাসমান পাটের হাট। ক্রেতা বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হাট। মুন্সিগঞ্জের ৬উপজেলায় এবছর আবাদকৃত ২হাজার ৯শ ৫হেক্টর জমির পাটের পাশাপাশি চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাধারীপুর সহ বিভিন্ন জেলার পাট হাটে আসছে। তীর অথবা নদীতে নোঙর করেই চলছে বেঁচাকেনা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানায়, বিক্রির মৌসুমে ৩-৪মাস পাটের হাট বসে। প্রতি সপ্তাহে ৫থেকে ১০হাজার মণ পাটের কেনাবেঁচা হয়। সে হিসাবে ক্রয়বিক্রয় ছাড়ায় কোটি টাকার বেশি।

নূর উদ্দিন নামের এক শরীয়পুর থেকে পাট নিয়ে আসা কৃষক জানায় জানান, ‍“ভাই বহুৎ বছরের পুরাতন হাট। দেড়শ দুইশো বছরের পুরাতন পাট বিক্রির হাট এটি। বহু জেলা থেকে কৃষক, পাইকার, বেপারী আসে৷ বাজার ভালো থাকলে দাম ভালো আবার খারাপ থাকলে লোকসান। লাভলস মিলাইয়াই ব্যবসা হয়।”

মোঃ ইসলাম নামের এক পাইকার জানান, “২৫ বছর ধরে ব্যবসা করি। এটা একটা ঐতিহ্যবাহী হাট। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ঘোড়াশাল থেকে আসি, এখান থেকে পাট কিনে নিয়ে যায়। বর্তমানে ২৫শ থেকে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত পাট কিনতাছি।”

বিজ্ঞাপন

এদিকে কৃষকরা জানায় গতবছর লাভবান হওয়া এবছর বেড়েছে পাটে আবাদ। গতব ছরের অনুরূপ এবছরও  দামদর রয়েছে, তবে বেড়েছে উৎপাদন খরচ আর সম্প্রতি তেলের দাম ভাড়ায় বেড়েছে পরিবহন ভাড়াও। উৎপাদন ও পরিবহন মিলিয়ে বর্তমানে খরচ হচ্ছে ১৮ শ থেকে ২২ শ টাকা। বাজারে দাম রয়েছে ২৩শ থেকে ৩ হাজার টাকা। এতে লাভবান হলেও কমেছে কৃষকদের লাভের পরিমান। অন্যদিকে অনেক স্থানে পানি সংকটে পাট পাঁচানো যাচ্ছে না। এতে সেসব পাটের মান হচ্ছে কিছুটা নিন্ম, দামও মিলছে কম। 

মোঃ দিদার হালদার নামের পাট বিক্রেতা জানান, “দেড় কানি জমিতে আমি গত বছর চাষ করছিলাম। সে সময় ৬০হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবছর ৯৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কামলা খরচ বাড়ছে, যাতায়াত  খরচ বাড়ছে। এতে আমাদের লাভ কম হইতেছে।  সরকার যদি একটা উদ্যোগ নিয়ে পাটের দাম তার একটু বাড়ায় ৩৩শ থেকে ৩৬শ করত তাইলে কৃষকরা কিছু টাকা পেতাম।”

আফজাল খান নামে এক বিক্রেতা জানান, “গত বছরের চেয়ে এবছর শ্রমিকেকে বেশি টাকা দিতে হইছে।  উৎপাদন খরচ বেড়েছে। যদিও এখন বাজার ভালো আছে।  তবে আমরা আশানুরূপ যে লাভ সেটা পাচ্ছিনা। আরো কিছু যদি লাভ হতো তাহলে আমরাদের জন্য ভালো হতো।”

বিজ্ঞাপন

আব্দুর রব হাওলাদার জানান, “পানি নাই, ঠিকমত পাট পচাইতে পারি নাই। তবে বাজারে দাম ঠিক আছে। আমার লস হয়নাই, চালান পাইছি, সব পাট বিক্রি করে দিছি। লাভ লস নাই।”

আক্তার হোসেন নামের একজন বলেন, “সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহনে পাটপন্যের বাজার আরো সম্পসারিত করা গেলে বেশি লাভ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কৃষকদের।”

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ খুরশীদ আলম জনবাণীকে জানান, “বিভিন্ন স্থানে পাটের বড় বাজারা থাকে। দিঘীরপাড় তেমনই একটি বড় বাজার। বর্তমান ২৫শ থেকে ৩হাজার টাকা মূল্য যা সন্তোষজনক। এদাম থাকলে কৃষকরা কিছু লাভ করতে পারবে। তবে এর চেয়ে দাম কমলে লোকসানের শংকা হতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের লাভ কিছুটা কম হবে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি অধিক ফলনশীল পাটের আবাদ করার জন্য।  এতে তারা সুফল পাবে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে পাট পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত করার জন্য নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাটপণ্য বাধ্যতামূলক করেছে এতে পাটের বাজার আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো। একেবারেই যে লোকসান হচ্ছে এমনটা না। পাটের বাজার আগের তুলনায় এখন বেশ সম্প্রসারিত হচ্ছে এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে পাটের আবাদ বাড়ছে।”

পানি সংকটে পাট পচানোর প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে খুরশেদ আলম বলেন বলেন, “এটি একটি প্রাকৃতিক কারণ। পাট চাষের মৌসুমে ফলন মোটামুটি ভালো হচ্ছিলো, তবে শেষ দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির সংকট দেখা দিয়ে। এতে পানির অভাবে পাটের যে গুনগতমান সেটি কৃষকরা পাচ্ছে না। যার কারনে বাজার মূল্য কিছুটা কম। তবে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারে পাট পচাঁতে পারো কৃষকরা। এটি একটু পরিশ্রম সাপেক্ষ পদ্ধতি।  এতে অভ্যস্ত নয় বলে কৃষকরা করতে চায়না। তবে এটি সমাধান হতে পারে। এছাড়া দূরে কোথাও পানির উৎসে নিয়ে যদি ভালো পানিতে পচানো যায় সেক্ষেত্রে পাটের মান কিছুটা ভাল হবে এবং সেটি বিক্রি করেও মোটামুটি আর্থিক লাভবান হবে সে ক্ষেত্রে লোকসান এড়ানো যাবে।”

এসএ/

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD