Logo

হাতিরঝিল থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ-ভ্রুণ হত্যা মামলা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২৩:৪৬
হাতিরঝিল থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ-ভ্রুণ হত্যা মামলা
ছবি: সংগৃহীত

বাদী ও স্বাক্ষীদের ফের জবানবন্দী নিবে আদালতনিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভে...

বিজ্ঞাপন

বাদী ও স্বাক্ষীদের ফের জবানবন্দী নিবে আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ইন্সপেক্টর গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন এবং সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়েরের আবেদন করেছে এক নারী।

গতকাল বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জুলফিকার হায়াতের আদালতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার এক ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে বুধবার এই মামলার বিষয়ে কোন আদেশ হয়নি বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরই মাহমুদা আক্তার।

বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক জুলফিকার হায়াতের আদালত আগামী ৬ অক্টোবর বাদী ও তার ছেলে এবং তার মাকে আরও অধিকতর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তলব করেছেন।

এদিন ট্রাইব্যুনাল তাদের সবার জবানবন্দি নেওয়ার পর মামলা গ্রহণের বিষয়ে আদেশ দিবেন আদালত। 
মামলার অপর আসামিরা হলেন- ডেমরার বাসিন্দা তানীম রেজা বাপ্পী, সাহিদা তানীম, যাত্রাবাড়ীর নিউ পপুলার আবাসিক হোটেলের মালিক জাবেল হোসেন পাপন ও মো. জামাল। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী একজন ছেলে সন্তানের জননী। গত ১ মার্চ ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে আসামি তানীম রেজা বাপ্পি, জাবেল হোসেন পাপন, মো. জামাল ও ওসি আব্দুর রশিদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল ওসি আব্দুর রশিদকে বাদ দিয়ে তানীম রেজা বাপ্পি, জাবেল হোসেন পাপন, মো. জামালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানা ঢাকাকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী হাতিরঝিল থানা ৫২ (০৩) ২০২২ এজাহার নেয়। বর্তমানে ওই মামলাটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ জুলাই বিকেলে আসামিরা বাদীনীর বাসায় এসে পূর্বের মতো তার সন্তানকে জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যান। তারা দক্ষিণ গোরান ছাপড়া মসজিদ এলাকায় নগর উন্নয়ন সমাজ সেবা সংস্থার (সালেহা মেডিকেল সেন্টার) নিয়ে সেখানে চিকিৎসার নামে বাদীর শরীর অবশ করেন। তার পেটের সন্তানকে হত্যা করেন। পরে বাসায় পৌঁছে দেন। তাকে পতিতা ব্যবসায় নিয়োজিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় হেয় প্রতিপন্ন করার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামি তানীম রেজা বাপ্পি, মো. জামাল ও সাইফুল ইসলাম বাদীনীর বাসায় এসে বাদীনীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বলে। বাদীনী তা অস্বীকার করলে আসামি মো. জামাল বাদীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখেন এবং তানীম রেজা বাপ্পি ও সাইফুল ইসলাম অস্ত্রের মুখে বাদীকে ধর্ষণ করেন। একইভাবে চলতি বছর ৩১ মে রাতে তারা আরও অনেক বার বাদীকে ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ জুন সকাল সাড়ে ৮দিকে বাদীর বাসায় এসে আসামি আব্দুর রশিদ ও আশরাফ উদ্দিনের সহযোগিতায় অপর আসামিরা বাদীনীকে জোরপূর্বক পিবিআই অফিসে নিয়ে যায় এবং আসামি আব্দুর রশিদ ও আশরাফ উদ্দিন বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক কয়েকটি সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন ও তাদের শিখিয়ে দেওয়া মনগড়া বক্তব্য অডিও রেকর্ড করেন এবং লিখিত নেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর গত ২১ জুলাই বাদীনী শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারে তিনি সাত সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বাদী নিরূপায় হয়ে গত ২৬ জুলাই পুলিশ হেডকোয়াটার্সে আইজিপি বরাবর ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বাদীর অভিযোগের বিষয়ে আসামিরা জানতে পেরে আসামি আব্দুর রশিদ ও আশরাফ উদ্দিনের সহযোগিতায় অপর আসামিরা গত ২৮ জুলাই বিকালে বাদীনীকে অস্ত্রের মুখে বাসা হতে তুলে নিয়ে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ গোড়ান ছাপড়া মসজিদ এলাকায় নগর উন্নয়ন সমাজ সেবা সংস্থায় (সাবেক সালেহা মেডিকেল সেন্টার) নিয়ে নার্স ও সেখানকার চিকিৎসক দিয়ে তার অ্যাবশন করান।

এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বাদীকে আসামিরা পতিতা বানানোর হুমকি এবং সোস্যাল মিডিয়াই অপপ্রচার চালিয়ে বাদীকে হেয় প্রতিপন্ন করাসহ হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন।

বিজ্ঞাপন

এরআগে, গত ১ মার্চ  ভুক্তভোগি নারী  নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী একজন স্বামী ‘পরিত্যক্তা’ নারী। তিনি খিলগাঁওয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক বছর আগে তার সঙ্গে রাজধানীর ডেমরা রসুলপুরের তানিম রেজা বাপ্পির পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর আসামি তানিম তার সহযোগীদের নিয়ে মামলার বাদীর ভাড়া বাসায় আসেন। সেখানে তানিম বাদীকে বিয়ে করেন। বিয়েটা ছিল সাজানো। দুই মাস ঘর-সংসার করেন। এরপর বাদীর সন্দেহ হয়। তিনি কাবিননামা চান। তারা বিয়ের কাজী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে যান। বাদী জানান, তাদের বিয়ের কোনো কাগজপত্র নেই। বিয়ের নাটক সাজিয়ে তানিম রেজা বাপ্পি বাদীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

মামলায় এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তানিম রেজা হাতিরঝিলের পাশের একটি বাসায় নিয়ে যান তাকে। সেখানে নিয়ে জাভেল হোসেন পাপন ও মোহাম্মদ জামাল মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় ভিকটিম ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে সুস্থ হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা কয়েকজন আসামিকে আটক করেন। কিন্তু আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা এ মামলা গ্রহণ না করে বাদীকে (ভিকটিম) এক লাখ টাকা নিয়ে আপস করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। 

জেবি/ আরএইচ/

বিজ্ঞাপন

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD