Logo

পঞ্চগড়ে সবুজ বনানীতে মাঠ-প্রান্তর ভরে গেছে

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩০ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪৭
পঞ্চগড়ে সবুজ বনানীতে মাঠ-প্রান্তর ভরে গেছে
ছবি: সংগৃহীত

সবুজের প্রতিচ্ছবি যেনো প্রকৃতির অপরুপ সৃষ্টি আর কৃষকের প্রাণের উচ্ছাস মাঠ প্রান্তরকে সরোব করেছে

বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ের মাঠ প্রান্তর ভরে গেছে চাষাবাদে। সবুজের হাতছানি চারদিকে। যেদিকে তাকাবেন সেদিকে সবুজ বনানী আর বনানী। দেশের সম্ভবনাময় জেলা পঞ্চগড়ে চায়ের পাশাপাশি আবাদ হচ্ছে সব কৃষিপণ্যের। গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক অপরুপ চিত্র ফুটে ওঠেছে জেলার সর্বত্র। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ফসলের সরোবর। কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে এ যেনো কৃষকের নীরব উচ্ছাস।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষি উৎপাদনে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, বাজারমূল্য পাওয়া, জাতের উন্নয়ন, আধুনিক চাষাবাদ শিখতে পারায় কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন ও বিপ্লব ঘটেছে। ফলে সবুজের প্রতিচ্ছবি যেনো প্রকৃতির অপরুপ সৃষ্টি আর কৃষকের প্রাণের উচ্ছাস মাঠ প্রান্তরকে সরোব করেছে।

বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলার সব এলাকাতেই বছরজুড়ে চলে কৃষকের কর্মজজ্ঞ। বাদাম, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, শসা, লাউ, ঢেঁড়স, চিচিংগা, সজি কচু, পেঁপে, মরিচ, করলা, কলাসহ মানুষের জন্য কৃষিপণ্যের বিপুল উৎসের জাগতিক নির্দশন সমাদৃত হয়ে চারদিকের পরিবেশকে এক উচ্চ মাত্রায় নিয়ে গেছে। যা দেখলে সহসা পরিতৃপ্তিতে মন ভরে যায়। 

বিজ্ঞাপন

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের ভাওলাপাড়া এলাকায় তিনশত বিঘার উপড়ে জমিতে চাষ হয়েছে মিষ্টি কুমড়ার। ভাওলাপাড়ার কৃষক জয়নুল হক বলেন, প্রায় ২৫/২৬ জন মিলে এই তিনশত বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। গতবারও করে বিঘায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়। আমরা আলুর সময় বিএডিসির আলু ও চাষ করি। বিঘায় একশো থেকে একশো কুড়ি মন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়। 

জয়নুল জানান, ২৫ বিঘা জমিতে গতবার ১০ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়ায় আয় করেছেন। এবার ও তিনি এমন দাম পাবেন বলে আশাবাদী। প্রতিমন মিষ্টি কুমড়া ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা মন দরে বিক্রি হয়। বিঘায় সর্বোচ্চ ব্যয় হয় চার হাজার টাকা। ব্যয় কম বলে জানান কৃষক জয়নুল। 

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ঢাকা, যশোর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এসে এই মিষ্টি কুমড়া নিয়ে যায় বৈশাখের শুরুতে মিষ্টি কমুড়া তোলা শুরু হয়ে জৈষ্ঠে গিয়ে শেষ হবে। আমরা যদি সঠিক সময় সার কীটনাশক পাই তাহলে আমরা সামনের দিনগুলিতে কৃষিতে আরো মনোনিবেশ করতে পারবো।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকার আমকাঠাল, শেখের হাট, বিশমনি জামাদারপাড়া, মাগুরার কালেশ্বর পাড়া, সিপাইপাড়াসহ ওই এলাকায় বিস্তৃর্ণ এলাকায় চাষ হয়েছে ভুট্টা ও মরিচের।

পঞ্চগড়ের মোট আবাদী জমির পরিমান একলাখ ৮০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে তিন হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে জমিতে চাষ হচ্ছে চাপাতা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আট হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে বাদাম, আঠাইশ হাজার ৮০৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৭৭ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া, আট হাজার ১২ হেক্টর জমিতে বেগুন, আট হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ, ২৫৫ হেক্টর জমিতে শসা ও ২৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে করলা। 

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও বোরো চাষ করা হয়েছে এবার ৬৩ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বলে জানান উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদেক। গতবারে চেয়ে বেশি। তবে লোকসানের কারণে এবার তরমুজের আবাদ কম হয়েছে মাত্র ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে। কয়েক বিরুপ আবহাওয়ার কারণে কৃষক তরমুজ চাষ কম করেছে। 

বিজ্ঞাপন

এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, এবার আবহাওয়া ভালো ছিল তরমুজ চাষ করা যেতো যারা করেছে তারা দাম পেয়েছে। বোরো এবার মে মাসের শেষেকাটা শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দীন বলেন, প্রযুক্তি ও জাতের উন্নয়ন চাষাবাদের কৌশল শিখতে পারা নতুন জাতের চাষাবাদ বৃদ্ধিসহ বাজার মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD