Logo

গাছে গাছে ঝুলছে রসালো লিচু

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২১ মে, ২০২৫, ২৩:০৯
গাছে গাছে ঝুলছে রসালো লিচু
ছবি: সংগৃহীত

কম খরচে স্বল্প সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় আশানুরূপ লাভের প্রতিফলন ঘটছেনা বলে লিচু চাষিরা জানান।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ছাতক দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এখন লিচুর গ্রাম নামে পরিচিত। টিলা বেষ্টিত এঅঞ্চলের রসালো লিচু বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে । তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাগানে লিচুর ফলন কম। এখানের লিচু বাগানগুলো এখন মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে শুধু পাকা লিচু আর লিচুর সমাহার। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ী, বড়্গলা, দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া,টেংরাটিলাসহ অসংখ্য গ্রামে রয়েছে রসালো ফল লিচুর বাগান।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে শত বছর পূর্বে গৌরীপুরের জমিদারের কাছারিবাড়ী ছিল মানিকপুর গ্রামে। বর্তমানে ওই বাড়িটিতে মানিকপুর জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে জমিদারের নায়েব হরিপদ রায় ও শান্তিপদ রায় কাছারি বাড়িতে কয়েকটি লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন। বিশাল আকারের লিচু গাছগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে কাছারি বাড়িতে। কাছারি বাড়ির এসব লিচু গাছ থেকে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে দু’একটি করে গাছ লাগিয়েছিলেন গ্রামের লোকজন। 

বিজ্ঞাপন

এ গাছগুলোতে লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় লিচু চাষে গ্রামের অনেকেই আগ্রহী হয়ে পড়েন এবং বাণিজ্যিকভাবে কয়েকজন লিচু উৎপাদন শুরু করেন। ২০১৩ সালে বাগানীরা কয়েক লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এরপর থেকেই লিচুর গ্রাম হিসেবে মানিকপুর পরিচিতি লাভ করে। পর্যায়ক্রমে আশ-পাশের গ্রামগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়।

এদিকে লিচুর গ্রাম নামে পরিচিত  মানিকপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত নাজুক। ফলে চাষিরা এ অঞ্চলে তাদের  উৎপাদিত লিচু সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে নিয়মিত ব্যর্থ হচ্ছেন। এজন্য এখানের উৎপাদিত লিচু কম খরচে স্বল্প সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় আশানুরূপ লাভের প্রতিফলন ঘটছেনা বলে লিচু চাষিরা জানান।

বিজ্ঞাপন

মানিকপুর গ্রামের হামিদ বাঙ্গালি জানান প্রতি বছরই যথা সময়ে লিচুগাছের পরিচর্যা দিয়ে ভালো ফলনের উপযোগী করে তোলা হয়। শ্রম ও পরিচর্যার কারণে এখানে লিচুর ফলন ভাল হচ্ছে। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগের কারণে উৎপাদিত লিচু বাজার মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হলে এলাকায় লিচু চাষে আরো লোকজন আগ্রহী হয়ে উঠবে।

বিজ্ঞাপন

দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, লিচু চাষীদের সবসময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে চাষীরা পাচ্ছেন ভালো বাজার মূল্য। টিলা বেষ্টিত এ অঞ্চল লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানে লিচুর বাগান করতে আগ্রহীদের সরকারি সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

বিজ্ঞাপন

 

এসডি/

বিজ্ঞাপন

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD