আবু সাঈদের সুরতহালে গুলির কথা না লিখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসআই মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাকে জোর করে গুলির আঘাতের বিষয়টি প্রতিবেদনে না লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আদালতে বলেন, “সেদিন মরদেহে অসংখ্য ছররা গুলির ক্ষত ও মাথার পেছনে রক্তাক্ত চিহ্ন দেখেছি। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এসব লেখা যাবে না। আপত্তি জানালে আমাকে জামায়াত-শিবির বানিয়ে চালান করার হুমকি দেওয়া হয়।”
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এসআই তরিকুল আরও জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেও চাপ প্রয়োগ করে শেষ পর্যন্ত একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে বাধ্য করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন এবং পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন কারাগারে থাকলেও ২৪ জন এখনও পলাতক। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ হবে।
তরিকুল বর্তমানে ডিএমপি’র ভাষানটেক থানায় কর্মরত আছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় দায়িত্বে ছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, সেদিন সত্য গোপন করতে না চাইলে তাকে শারীরিক ক্ষতির ভয়ও দেখানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
এএস








