Logo

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নথি জালিয়াতিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২৩:৪৬
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নথি জালিয়াতিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বহিষ্ক...

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম মুমিনসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ জুন) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নেন।

বিজ্ঞাপন

চার্জশিটভুক্ত অপর সাত আসামি হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম মুমিন, মো. ফরহাদ হোসেন ওরফে মোরশেদ আলম, ফাতেমা খাতুন, মো. নাজিম উদ্দিন, মো. রুবেল, এম আবদুস সামাদ আজাদ ও রবিউল আউয়াল।

একই সঙ্গে এ মামলায় পলাতক দুই আসামি আজাদ ও রবিউলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এছাড়া গ্রেফতার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতিপর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। এই নথি হস্থান্তরের আগে ফাতেমা বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন এবং হস্থান্তরের পর দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেন।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

একই বছরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলাম মমিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু মামলার অপরাধের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা ও ধারা দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় আদালত তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন।

২০২২ সালের ১৮ মে দুদকের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. শাহজাহান ও - কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম মুমিনসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্য ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সারসংক্ষেপের প্যাকেট খুলে টেম্পারিং করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আসামিরা একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে সারসংক্ষেপের এক নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তির নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত টিক চিহ্নটি টেম্পারিং করেন। তার নামের পাশে ক্রস চিহ্ন বসিয়ে দেন আসামিরা। ২ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তির নামের পাশেও ক্রস চিহ্ন বসিয়ে দেন তারা।

এরপর সারসংক্ষেপের ৩ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তির নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন আসামিরা। এভাবে তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি জালিয়াতি করার অপোধ করেছেন।

এসএ/

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD