মক্কায় ৪০০ বছরের পুরোনো কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ‘হলি কুরআন মিউজিয়ামে’ ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো পবিত্র কোরআনের একটি বিরল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতার শৈল্পিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির অনন্য দৃষ্টান্ত উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
বিজ্ঞাপন
প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১১শ শতাব্দীর বলে জানা গেছে। এতে সূক্ষ্ম সোনালি অলঙ্করণ, উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এবং নিখুঁত ক্যালিগ্রাফি ফুটে উঠেছে। সমকালীন সময়ের ইসলামি শিল্পকর্মের উৎকর্ষ ও নান্দনিক মান এতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি পাতা সূক্ষ্ম পুষ্পশোভিত নকশা এবং কারুকার্যময় অলঙ্করণে সাজানো হয়েছে। এটির শুরুতে সূরা আল-ফাতিহা সংবলিত অংশটিতে জ্যামিতিক নিখুঁততা এবং বিস্তারিত সোনালি কারুকাজের এক চমৎকার সমন্বয় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন

জাদুঘরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাণ্ডুলিপিটি মূলত ইসলামি ক্যালিগ্রাফার এবং অলঙ্করণ শিল্পীদের দক্ষতার পরিচায়ক। এর মাধ্যমে ওই সময়ের শিল্পীরা নিপুণ হস্তাক্ষর ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের মিশেলে কুরআনের লিখনশৈলীকে এক অনন্য শৈল্পিক ঐতিহ্যে রূপান্তর করেছেন।
মক্কার হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে কয়েক শতাব্দী ধরে কোরআনের লিখন ও অলঙ্করণ শৈলীর পরিবর্তন ও বিকাশ তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ইসলামি পাণ্ডুলিপি, শিল্পের বিকাশ এবং পবিত্র কুরআনের প্রতি মুসলমানদের চিরন্তন শ্রদ্ধাবোধ অনুধাবনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কুরআন যে শুধু একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক অনুপ্রেরণারও এক অন্যতম উৎস, সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
শতবর্ষী এই নিদর্শনটি ইসলামি ঐতিহ্যের সমৃদ্ধির এক জীবন্ত দলিল হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি বর্তমানে জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সারাবিশ্বের দর্শনার্থীদের কাছে কারুশিল্পের এক অনন্য উত্তরাধিকার হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ








