Logo

সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়ালের নাজিরের পকেটে ঘুষের টাকা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪৪
সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়ালের নাজিরের পকেটে ঘুষের টাকা
মো. বেল্লাল হোসেন। ফাইল ছবি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে টাকা নেওয়া, এরপর চাকরি না দিয়ে দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। জেলা জজের বাসভবনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামের সাইফুল প্রামাণিকের ছেলে রাকিবের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করে রাকিব।

ভুক্তভোগীর দাবি, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার পর প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকা ফেরত চাইলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রাকিবকে সিরাজগঞ্জ জেলা জজের বাসভবনে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন নাজির বেল্লাল হোসেন। এ জন্য পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয় বলে দাবি রাকিবের। পরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়।

রাকিব বলেন, ‘সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় তাঁর কথায় বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছি। টাকা জোগাড় করতে বাড়ির গরু বিক্রি করেছি। আবার সুদেও টাকা ধার করেছি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, চাকরিতে যোগদানের পর লোন করে দেবেন।’ কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চাকরি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন রাকিব। তাঁর অভিযোগ, পরে জেলা জজের বাসভবনের চাকরির পরিবর্তে তাঁকে আদালতের অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার নতুন আশ্বাস দেওয়া হয়। এভাবে একের পর এক আশ্বাসে কেটে যায় প্রায় ১৮ মাস।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি বারবার কয়েক দিন সময় চান। কখনো বলেন টাকা দেবেন, আবার কখনো আরও সময় চান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ঘুরাচ্ছেন।’ চাকরির আশায় নেওয়া ঋণের বোঝা নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন বলে দাবি রাকিবের। তাঁর অভিযোগ, চাকরি না হওয়ায় একদিকে যেমন সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে, অন্যদিকে টাকা ফেরত না পাওয়ায় ধার-দেনার চাপও বেড়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, চাকরি দেওয়ার নামে নেওয়া তিন লাখ টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, আদালতের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নাজির বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থাকার কারণে বেল্লাল হোসেনের কথায় তাঁরা আস্থা রেখেছিলেন। চাকরির আশ্বাসে সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী রাকিব ও তাঁর পরিবার দ্রুত লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই, টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. বেল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD