১০ জন নিয়েও মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড

দ্বিতীয়ার্ধের দীর্ঘ সময় ১০ জনের দল নিয়েও স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রতিকূল আবহাওয়া, স্বাগতিক দর্শকদের তুমুল সমর্থন এবং লাল কার্ডের ধাক্কা—সব বাধা পেরিয়ে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৬ জুলাই) মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচটি তীব্র বজ্রপাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে শুরু হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে ছিল অনেক বেশি কার্যকর ইংল্যান্ড।
পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয় মেক্সিকোকে। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে ৬৭ শতাংশ বলের দখল ছিল স্বাগতিকদের। তারা মোট ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড মাত্র ৫টি শট নিয়ে ৪টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকেই তিনটি গোল আদায় করে নেয়।
বিজ্ঞাপন
প্রথমার্ধে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহ্যাম। গোলশূন্যভাবে ৩৫ মিনিট পার হওয়ার পর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমে বুকায়ো সাকার বাড়ানো বল থেকে এবং পরে হ্যারি কেইনের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

তবে বিরতির আগে ম্যাচে ফিরে আসে মেক্সিকো। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধের জন্য স্বাগতিকদের আশা জিইয়ে রাখেন।
বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৫৪তম মিনিটে মেক্সিকোর হেসুস গায়ার্দোকে কঠোর ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
বিজ্ঞাপন
একজন কম নিয়ে খেললেও পাল্টা আক্রমণে আরও একটি গোল আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ৩-১ করেন।
এরপর মেক্সিকোও পেনাল্টির সুযোগ পায়। কেইনের করা একটি ফাউলের পর স্পট কিক থেকে গোল করেন রাউল হিমিনেজ। তার গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২। শেষ দিকে একাধিক আক্রমণ চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।

চলতি বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়া মেক্সিকোর রক্ষণভাগ এদিন বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। ইংল্যান্ডের এই তারকা মিডফিল্ডারের গতি, অবস্থান নির্বাচন এবং ফিনিশিংয়ের কার্যকর জবাব খুঁজে পায়নি তারা।
বিজ্ঞাপন
এই হারের মধ্য দিয়ে সহ-আয়োজক হিসেবে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল মেক্সিকো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠলেও কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হলো না তাদের।
মেক্সিকোর সমর্থকদের আশা ছিল, ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে আবারও শেষ আটে জায়গা করে নেবে দলটি। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালেও দেশটি বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল। তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে আবারও রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায় নিতে হলো ‘এল ত্রি’কে। এ নিয়ে টানা অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেই থামল মেক্সিকোর যাত্রা।
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে এই জয় ইংল্যান্ডকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করে অর্জিত এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও জানান দিয়েছে ইউরোপের অন্যতম এই পরাশক্তি।
আজতেকা স্টেডিয়ামের ইতিহাসেও এটি মেক্সিকোর জন্য একটি হতাশার দিন। ১৯৬৬ সালে স্টেডিয়ামটি চালুর পর এটি সেখানে স্বাগতিকদের মাত্র তৃতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরাজয়। এর আগে ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কোস্টারিকার কাছে এবং ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের কাছে একই ব্যবধানে ২-১ গোলে হেরেছিল মেক্সিকো। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের এই নাটকীয় হার।








