পিছিয়ে থেকে কখনো জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা

চলতি আসরে প্রথমবারের মতো প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পরে পেনাল্টি পেয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর। পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার জন্য সুখকর নয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে কখনোই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি তারা।
বিজ্ঞাপন
২০১০ সালে জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে তারা হাফটাইম শেষ করল পিছিয়ে থেকে। ওইবার ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। এর আগের ১০ বার বিরতিতে পিছিয়ে থাকার পর একবার হার এড়িয়েছিল তারা। ড্র একটি, হার ৯টি।
শুরুতেই আর্জেন্টিনার জাল কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটিকে পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালের ভেতরে পাঠান তিনি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।
১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।
বিজ্ঞাপন
তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি গোল করতে পারেননি তিনি।
মেসির শটটি গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে গেলেও বলের গতি খুব বেশি ছিল না। তাই দারুণ দক্ষতায় বলটি প্রতিহত করতে সক্ষম হন মোস্তফা শোবেইর।
বিজ্ঞাপন
চলতি টুর্নামেন্টে এটি মোস্তফার দ্বিতীয় পেনাল্টি রক্ষা করার কীর্তি। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের মেহদি তারেমির নেওয়া পেনাল্টিও একইভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
প্রথমার্ধের ২৮তম মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এই গোলরক্ষক। রদ্রিগো ডি পলের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেড নিলেও ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ সেভ করেন মোস্তফা।
এরপর ৩৮তম মিনিটে দূর থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে সেটি গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। ঠিক পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে জুলিয়ান আলভারেজ জোরালো শট নেন। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ান মোস্তফা শোবেইর। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আরও একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে প্রথমার্ধে মিশরের ১-০ গোলের ব্যবধান অক্ষুণ্ন রাখেন তিনি।
বিজ্ঞাপন








