২০২৭ সালে মহা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পৃথিবী

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সতর্কতা জোরালো হচ্ছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কোনো ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য জলবায়ু ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NOAA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষভাগ ও ২০২৭ সালের শুরুর দিকে খুব শক্তিশালী এল নিনো থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট ছিল বিশ্বে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে উষ্ণ আগস্ট। ওই মাসের বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৫ ডিগ্রি বেশি। আগস্ট মাসটি সব ক্যালেন্ডার মাস বিবেচনাতেও রেকর্ড উষ্ণতম মাসগুলোর একটি হয়েছে।
কোপার্নিকাসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হওয়া এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
বিজ্ঞাপন
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই এল নিনো আগামী কয়েক মাসে আরও শক্তিশালী হয়ে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। এটি বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, খরা ও ঝড়ের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ঠিক কী ধরনের আবহাওয়া হবে, তা এল নিনো একাই নির্ধারণ করে না।
NOAA-এর সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে এমন একটি পরিস্থিতির সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে, যা ১৯৫০ সালের পরের শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলোর মাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অ্যাকুওয়েদারের বিশ্লেষণেও ২০২৬-২৭ সালের এল নিনোকে বিরলভাবে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে এবং খাদ্য, পানি ও কৃষি উৎপাদনেও চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে নিশ্চিতভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমান তথ্য মূলত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছে। এল নিনোর প্রকৃত শক্তি, স্থায়িত্ব ও আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্র: ডেইলি মেইল








