আরও শক্তিশালী হয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিয়েছে অর্ণব

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ছয় ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের উড়িষ্যার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উড়িষ্যায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজ্যটির ছয় জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো—পুরী, গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি। এসব এলাকায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া আরও ১৬টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জেলাগুলো হলো—বালাসোর, ভদ্রক, যাজপুর, কেন্দ্রাপাড়া, কটক, কেওনঝড়, ময়ূরভঞ্জ, কন্ধমাল, কালাহান্ডি, নবরংপুর, খুরদা, নয়াগড়, জগৎসিংহপুর, নুয়াপাড়া, বালাঙ্গির ও বৌধ।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উড়িষ্যা সরকার।
বিজ্ঞাপন
রাজ্যের বিশেষ ত্রাণ কমিশনার রাজেশ পি পাতিল জানিয়েছেন, নিচু এলাকা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল থেকে অন্তত ৪৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গজপতি ও নবরংপুর জেলা থেকে প্রায় ১১ হাজার করে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মালকানগিরি, গঞ্জাম, কোরাপুট, রায়গড়া, কালাহান্ডি ও নুয়াপাড়া জেলাতেও উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় উড়িষ্যার খুরদা জেলার সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি, সরকার-সহায়তাপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকবে। কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ নির্দেশের আওতায় রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় স্কুল ভবন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ভারতের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলে আঘাত হানার সময় ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস







