Logo

২০২৬ সালের ২০ পরীক্ষার্থী লিখলেন ২০২৫ সালের প্রশ্নের উত্তর

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা
২ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৬
২০২৬ সালের ২০ পরীক্ষার্থী লিখলেন ২০২৫ সালের প্রশ্নের উত্তর
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় গুরুতর অব্যবস্থাপনার ঘটনা ঘটেছে। একটি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের নিয়মিত ২০ পরীক্ষার্থী ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। নির্ধারিত তিন ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রশ্নপত্র মিলিয়ে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এতে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থী সবাই ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তাদের হাতে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র। অন্যদিকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে চলে যায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কক্ষ থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র মিলিয়ে বুঝতে পারেন, তারা চলতি বছরের পরিবর্তে গত বছরের প্রশ্নে উত্তরপত্র লিখেছেন। এরপর তারা দ্রুত বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানান। ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি সত্য। ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারা সবাই ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী এবং একই কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, ওই ২০টি উত্তরপত্র আলাদাভাবে প্যাকেটজাত করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে কেন্দ্রের অধ্যক্ষ তাকে অবহিত করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এটি দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভুলের কারণেই ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন কোন শিক্ষক ওই কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন কিংবা পরীক্ষার্থীরা কোন বিভাগের ছিলেন, সে তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে কেন্দ্রের শিক্ষকরা তাদের আশ্বস্ত করে জানান, এ কারণে ফলাফলে কোনো জটিলতা হবে না।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী অভিভাবক অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে গিয়ে সন্তানের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ফলাফল নিয়ে সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন। তবে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার দায়ভার কে নেবে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, তিন ঘণ্টার পুরো পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী কিংবা কক্ষ পরিদর্শকেরা কেউই প্রশ্নপত্রের এ অসঙ্গতি বুঝতে পারেননি। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১০৭ নম্বর কক্ষের ২০২৬ সালের নিয়মিত ২০ পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা দেন। একইভাবে অনিয়মিত ২০ পরীক্ষার্থী নিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

বিজ্ঞাপন

ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, ওই উত্তরপত্রগুলো যে প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। তাই ফলাফলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে ওই কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেনের সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হলে তিনি এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গাইবান্ধা জেলায় সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন। জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৬ হাজার ৯৫৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ৫১৬ জন। সে হিসাবে পরীক্ষার্থী অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। একই সময়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পৃথক প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষার প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) শাখায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD